বিএনপির কাউন্সিলে সরকার বাধা দেবে না। বিএনপি এবার কাউন্সিল যাতে করতে পারে সেই ব্যবস্থাই করবে সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত তারা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র পাচ্ছে না। ইতোমধ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে তাদেরকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে কোন রাজনৈতিক দলের কাউন্সিলের জন্য এই ভেন্যু ভাড়া দেওয়া যাবে না। আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি না পাওয়ায় বিএনপি এ বিষয়ে এখনো কিছু বলছে না।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে । ওই সময়ে এর নাম ছিলো বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। ওই সময়ে এর পরিচালনার দায়িত্ব ছিলো আগ্রাবাদ কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের কাছে। তারা গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে লিজ নিয়ে এটা পরিচালনা করতো।
এই কারণে তখন তারা ভাড়া দিয়েছিল। পরে সরকার ওই কোম্পানির লিজ বাতিল করে দেয়। গণপুর্ত মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব নিয়েছে সেটি পরিচালনা করার জন্য। এখনও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সেখানে হলেও, অন্য কোন রাজনৈতিক দলের দলীয় অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়নি। এই কারণ দেখিয়ে বিএনপিকেও দেওয়া হচ্ছে না।
সূত্র জানায়, বিএনপি ওই হল না পেলেও শেষ মহুর্তে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সিটিটিউশন বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে। আর সোহরোওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠান করার জন্য গণপূত্র মন্ত্রণালয় অনাপত্তি দিয়েছে। এখন পুলিশের অনুমতি দিলেই তারা সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারবে। বিএনপি সেই বিষয়টিও মাথায় রেখে এগুচ্ছে।
এই ব্যাপারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আশা করছি ভেন্যু পাবো। এই ভেন্যু পাওয়ার জন্য চেষ্টার ত্রুটি করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা ১৯ মার্চই আমাদের সম্মেলন করতে চাই।
এদিকে বিএনপিকে সোহরোওয়ার্দী উদ্যান ছাড়া আর কোন ভেন্যু না দেওয়া হলেও বিএনপি কাউন্সিল করার কথা বিবেচনা করছে। সেই হিসেবে তারা কাউন্সিল করবে ১৯ মার্চ। তবে অনুষ্ঠানের পরিসর ছোট হয়ে যাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও গঠনতন্ত্র সংশোধনী প্রস্তাব পাস করাতে যে সময় লাগবে, কেবল সে সময় পর্যন্ত বিস্তৃত হবে অনুষ্ঠান বক্তার সংখ্যাও কমিয়ে দেওয়া হবে।
কাউন্সিলে প্রায় দুই হাজার আট’শ কাউন্সিলর ও যোগ দিবেন। ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে দুই পদে নির্বাচন। দলের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন হয়ে গেলে কাউন্সিলরদের তরফ থেকে তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হবে অন্যান্য পদে নেতা নির্বাচনের জন্য। তারাই সেটা করবেন। ইতামধ্যে এই দিকটি বিবেচনা করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান কথা বলেছেন। তারা কিভাবে নেতাদের দায়িত্ব দেবেন সেটা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আর যে সব নেতাদের দায়িত্ব দিতে চাইছেন তাদের ব্যাপারেও দলের নীতি নির্ধারনী নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
এআইজে





