প্রতিহিংসার রাজনীতির আগুনে জ্বলছে গোটা বাংলাদেশ। মুখোমুখি অবস্থানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবীরা।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারের ১৪ দল আর বিএনপির ২০ দল সমর্থিত সিনিয়র আইনজীবী নেতা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে আদালত অঙ্গনে সোচ্চার। ফলে দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট ক্রমান্বয়ে আরো জটিল আকার ধারণ করছে।
প্রতিদিন মরছে মানুষ,ধ্বংস হচ্ছে দেশের অর্থনীতি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনসহ দেশের জেলা আদালত অঙ্গন উত্তপ্ত।
জানা যায়, ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবীরা। পুরো বছরই ছিলেন মুখোখমুখি অবস্থানে তারা।
২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর দুপুরে আদালত বর্জন, অ্যার্টনি জেনারেলের অফিস, হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিদের এজলাসের সামনের দরজা- জানালা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আর এ ভাঙচুরের ঘটনায় আওয়ামীপন্থী সিনিয়র আইনজীবীদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একাধিক মামলা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ ওই মামলার আসামি আইনজীবীদের গ্রেফতার করেনি।
তবে বর্তমান সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ এবং নানা কর্মসূচি পালনকালে বেশ কয়টি মামলার আসামি হবার পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা দফায় দফায় গ্রেফতার হচ্ছেন।
এদিকে গত ৬ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে চলছে টানা অবরোধ। আর গত ৫ জানুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সমাবেশকে প্রতিহত করার জন্য সরকার প্রথম সড়ক, নৌ এবং রেলপথ বন্ধ করে দেয়।
একই সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় এবং জেলা শহরে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের মূল গেট তালা লাগিয়ে দেয় পুলিশ।
শুধু তাইনয়, গেটের বাইরে ইট ও বালুর ট্রাক রেখে অবরোধ সৃষ্টি করে পুলিশ। ওই দিন বেগম খালেদা জিয়া তার কার্যালয় চত্ত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পুলিশ মরিচের গুড়া স্প্রে করে।
অপরদিকে গত ৫ জানুয়ারি সরকার সমর্থিত ১৪ দলীয় নেতাকর্মীরা র্যা ব পুলিশের সহযোগিতায় 'গণতন্ত্রের বিজয় দিবস' উল্লেখ করে রাজধানীতে মানববন্ধন ও মিছিল বের করে।
পরে বেগম জিয়া গুলশান কার্যালয় থেকে সারাদেশে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তবে মাঝে মধ্যে হরতালের কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট ভবনের সামনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে খালেদা জিয়াকে ‘অবরুদ্ধ’ রাখা এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেই যাচ্ছে।

খন্দকার মাহবুবুব হোসেন,ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া,মাহবুবুব উদ্দিন খোকনসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে প্রতিবাদ অব্যাহত রেছেছেন। এমনকি আদালত বর্জনের কর্মসূচি পালন করেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের বিদায়ী সংবর্ধনা বর্জন করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। ওইদিন তারা আইনজীবী সমিতির সভাপতির রুমের সামনে কলাপসিবল গেট তালা বদ্ধ করে দেন।
অপরদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির রুমের সামনের কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলেন আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা। তারা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও আইন-অঙ্গনে নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন।
আর এ কর্মসূচির নেতৃত্বে রয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আবদুল মতিন খসরু, বাসেত মজুমদার, শ.ম রেজাউল করিম,এম আমির উল ইসলাম, মমতাজ উদ্দিন মেহেদীসহ আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা।
আরো জানা যায়, ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটসহ দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল সমূহকে সংলাপে বসার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আর এরিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী ড. মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।
এর আগে ২০১৩ সালে একই আইনজীবীর আনা একই ধরনের একটি রিট আবেদনে দুই জোটের শীর্ষ দুই নেত্রীকে সংলাপে বসার বিষয়ে রুল জারি করেছিলো হাইকোর্ট। পরে ওই রিট পিটিশন খারিজ হয়ে যায়।
একে





