ভয়ংকর গণতন্ত্র বিনাশী সরকার মানুষের অধিকার সমূলে কেড়ে নিচ্ছে। এই সরকারকে অপসারণ করতে হলে জনগণের ঐক্যের গণঐক্যের আর কোনও বিকল্প নেই। আজকে সেই গণঐক্য আমাদেরকে সৃষ্টি করতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (৬ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলসহ সকল রাজবন্দিদের নিঃর্শত মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনের তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে- এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ কারণেই বিচার বিভাগ থেকে জনগণ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের ওপর আমাদের নির্ভর করার কথা, সাধারণ জণগণের নির্ভর করার কথা। কিন্তু এই বিচার বিভাগের কাছে আমরা কোনও বিচার পাই না। এই বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকার যা নির্দেশ দেয় আদালতও সেই বিচারই করে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার মামলায় যে বিচার হয়েছে কয়দিন আগে, এটা কখনও কোনও সভ্য সমাজে আইনের কোনও ইতিহাসের মধ্যে পড়ে না। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক রায় কখনও হতে পারে না। আমরা এই রায়ে হতাশ নই শুধু, বিক্ষুদ্ধও। দেশে এখন ন্যায়বিচার থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে দলের মহাসচিব ফখরুল বলেন, আজকে খালেদা জিয়ার মুক্তি আমরা চাচ্ছি এ কারণে যে, তাঁর মামলাগুলো সম্পূর্ণভাবে সাজানো। দ্বিতীয়ত, একই ধরনের মামলায় সরকারের অনুসারীদের জামিন দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদেরকে জামিন দিচ্ছেন না। দেশনেত্রীকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। এটা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি।

এ প্রসঙ্গে ফখরুল আরও বলেন, আজকে বেগম খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে, একই ধরনের মামলা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছিলো ১/১১-এর সময়। সেই ১৫টা মামলা তারা খারিজ করে দিয়েছে, বাতিল করে দিয়েছে। অথচ খালেদা জিয়ার জামিন না দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে উল্টো নতুন করে আরও মামলা যোগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি একটা গণদাবি, সাধারণ মানুষের দাবি, দলমত নির্বিশেষে সবাই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় এবং গণতন্ত্রের মুক্তি চায়।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম জোটের হরতালে বিএনপির সমর্থনের ব্যাখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, আমরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামীকালের হরতালকে আমরা সমর্থন করবো। কারণ এটা জনগণের দাবি। জনগণের সমস্ত দাবিকে আমরা সমর্থন করবো।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের ভাইদেরকে মুক্ত করতে হলে, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে, হাবিব উন নবী খান সোহেলকে মুক্ত করতে হলে অবশ্যই জনগণের ঐক্যের মধ্য দিয়ে গণঐক্য তৈরি করতে হবে। সমস্ত রাজনীতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে একটা গণজোয়ারের মধ্য দিয়ে গড়ে তোলা আন্দোলনেই এ সরকারকে পরাজিত করতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মহানগর যুবদল দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এসএম/এমবি