বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করেন ভাল কথা। তবে জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধীদেরকে ছাড়তে হবে। এদের স্থান আর বাংলার মাটিতে হবে না।
সোমবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'বিএনপি নেত্রী এখন জামায়াতকে না পারছেন ছাড়তে, না পারছেন ধরতে। তার অবস্থা এখন সাপে ব্যাঙ গেলার মত। না পারছে গিলতে, না পারছে ঝেড়ে ফেলে দিতে'।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধপারাধীর বিচার আমরা শুরু করেছি। এদের অনেকের রায় হয়েছে। অনেকর রায় কার্যকর করা হয়েছে। বাকিদের বিচার ও রায় এই বাংলার মাটিতেই কার্যকর করা হবে। কোন যুদ্ধাপরাধীদেরকে ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ক্ষমতায় দখল করে বিএনপির জম্ম দিয়েছিল। সেই দলের নেত্রী হয়ে খালেদা জিয়া এখন সবকিছুই অবৈধ দেখেন। তাই তিনি সরকারকে অবৈধ বলছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া হুমকি দিচ্ছেন আন্দোলন করে আমাদের সরিয়ে দিবেন। আমি তাকে স্বরণ করিয়ে দিতে চাই। ২০০৬ সালে তিনি আমাকে বলেছিলেন আমি নাকি বিরোধী দলের নেতাও থাকবো না। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আজ তিনি নিজেই বিরোধী দলের নেত্রীও নাই।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে হত্যা, গুম ও ষড়যন্ত্রে রাজনীতি শুরু হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জেল খানায় জাতীয় ৪ নেতাকে যারা হত্যা করেছে জিয়াউর রহমান তারেদকে রাজনীতিতে এনে ক্ষমতায় বসিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হাওয়া ভবন খুলে খালেদার পুত্র তারেক রহমান দূর্ণীতি করেছেন। অন্যদিকে বাংলার মানুষ না খেয়ে থেকেছেন। এখনও আপনারা দেখতে পারবেন হাওয়া ভবনের নেতারা আরাম আয়েসে দিন কাটাচ্ছেন। রাতারাতি তারা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তারা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে সেই বাংলাদেশেকে আবার উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন খালেদা জিয়ার চোখে পড়ে না। আসলে দেখতে তো ভালো চোখও লাগে। তিনি আজ আফসোস করছেন। কারণ আজকে তার ক্ষমতা নেই। দূর্ণীতি করতে পারছে না। তাই এখন তিনি হতাশায় ভূগছেন।
আলোচান সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দ সাজেদা চৌধুরী। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
এমআর/জেআই





