জাতীয় পার্টির বর্তমান মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুকে সরিয়ে নতুন মহাসচিব পদে রুহুল আমিন হাওলাদারকে দ্বায়িত্ব দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টায় বনানী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কার্যালয়ে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান বাবলুকে বহিষ্কারে দলের মধ্যে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হবে কি-না, উত্তরে এরশাদ বলেন, আমি পার্টির চেয়ারম্যান গঠণতন্ত্রের ক্ষমতাবলে আমি বাবলুকে অব্যাহতি দিয়েছি। তাই এতে পার্টির কোন সমস্যা হবে না। পরবর্তী কাউন্সিলে তা অনুমোদন করে নিব।
আর এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বাবলুর প্রস্তাবে রওশনকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার সুযোগ নেই। বাবলু কে? আমি পার্টির চেয়ারম্যান, আমিই সব।
এসময় সাংবাদকিরা জানতে চান, রওশনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় হবে কি না ? তার উত্তরে এরশাদ বলেন দলীয় সভায় আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আপনাদের দলে অভ্যন্তরীণ সমস্যায় সরকারের সঙ্গে কোন দুরত্ব সৃষ্টি হবে কি-না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে এরশাদ বলেন, আমি মনে করছি কোন সমস্যা হবেনা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও নতুন মহসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত,এর আগে গতকাল (সোমবার) রওশন এরশাদ নিজেকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেন।
সোমবার বিকেল ৫টায় অনুসারীদের নিয়ে রওশন তার বাসায় এক জরুরি বৈঠক করেন। এ বৈঠক চলে রাত আটটা পর্যন্ত।
বৈঠকের পর পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান।
রওশনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। এতে রওশন এরশাদকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টি কি আবার ভাঙতে যাচ্ছে এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। অনেক দফায় ভাঙনের কারণে ক্ষয়িষ্ণু জাপা এমনিতেই সংকটের মধ্যে রয়েছে। এবার ভাঙলে ঘুরে দাঁড়ানো বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
সামরিক শাসকের হাত ধরে প্রতিষ্ঠা পাওয়া জাতীয় পার্টি শুরু থেকেই এরশাদকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। দু’একবার যারাই এরশাদের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে গেছেন তাদেরকেই দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক নেতা একাধিক দফায় শোকজ ও সাময়িক বহিস্কারের শিকার হয়েছেন। শো’কজের ক্ষেত্রে এরশাদ ছাড় দেননি আপন ভাই জিএম কাদের ও স্ত্রী রওশন এরশাদকেও।
গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত এই দলটিকে নানা চড়াই-উৎরাইও পাড়ি দিতে হয়েছে। কয়েক দফায় ভাঙন আর নেতাদের দল ছেড়ে যাওয়ার কারণে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়েছে দলটি। ভোটের সমীকরণেও দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। আসনের সংখ্যায় কিছুটা হেরফের হলেও ভোটের সূচক সব সময় নিম্নগামী।
গণআন্দোলনের মুখে বিদায়ের পর প্রথম ১৯৯১ সালে নির্বাচনে কাস্টিং ভোটের ১১.৯২ শতাংশ পেয়েছিলো জাতীয় পার্টি। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ১০.৬৭ শতাংশ, আর ২০০১ সালের ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোট পায় ৭.২৫ শতাংশ। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে পেয়েছে মাত্র ৭.০৪ শতাংশ। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন অংশ নেয়। কিন্তু যে আসনেই জোট ছাড়া নির্বাচন করেছে সেখানেই ধরাশায়ী দলটির প্রার্থীরা।
জাতীয় পার্টি এর আগে চার দফায় ভাঙনের শিকার হয়েছে। ১৯৯০ সালে ক্ষমতাচ্যুতির পর এরশাদ জেলে প্রথম দফায় পৃথক জাপা গঠন করেন প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদ। ১৯৯৯ সালে মিজানুর রহমান চৌধুরী-আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নেতৃত্বে গঠন করা হয় পৃথক জাতীয় পার্টি । এরপর নাজিউর রহমান মঞ্জু ও কাজী ফিরোজ রশীদের নেতৃত্বে গঠন করা হয় জাতীয় পার্টি (নাফি)। সর্বশেষ কাজী জাফর আহমেদ’র নেতৃত্বে পাল্টাপাল্টি বহিস্কারের মাধ্যমে আরও একটি জাতীয় পার্টির জন্ম হয়।
এমএইচ/এসএইচ/কেবি





