বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের সকল নাশকতা দমন করার ওয়াদা দিলেন আওয়ামী লীগরে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।
সোমবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ওয়াদা দেন।
তিনি বলেন, বিএনপি দাবি করছে দেশের চলমান নাশকতায় তাদের হাত নেই। যদি তাই হয়, তাহলে বিএনপিকে বলবো- আপনাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করুন। আমরা আগে এই পেট্রলবোমা হামলাকরীদের দমন করি এরপর আবার কর্মসূচি দিন। আপনারা (বিএনপি-জামায়াত) কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিলে আমরা কথা দিলাম, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের সকল নাশকতা দমন করবো।
বিএনপি-জামায়াত কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে নাশকতা বন্ধ করার কথা বলছেন। তাহলে এখন করা বন্ধ করা যাচ্ছে না কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক সংগঠন। তাদের ৩০-৩৫ ভাগ ভোটার রয়েছে। তাছাড়া তাদের লাখ লাখ কর্মী রয়েছে। তাদের দমন করতে একটু সময় তো লাগবেই। তবে আশা করছি খুব শিগগিরই, এদেরকে দমন করতে পারবো।
যেসব সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ২ নেত্রীকে সংলাপে বসার তাগিদ দিচ্ছে তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৩৫ দিন ধরে আন্দোলনের নামে ২০ দলীয় জোট সাধারণ মানুষকে হত্যা করে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আপনারা (সুশীল সমাজ-বুদ্ধিজীবী) বলছেন- দুই নেত্রীর মধ্যে সংলাপ হলে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
আসলে এটা কি সম্ভব? ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে গোটা জাতিকে বিভক্ত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে জিয়াউর রহমান। এতেই প্রমাণ হয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যা হত্যার পিছনে কলকাঠি নেড়েছেন জিয়াউর রহমান।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াই জাতিকে ২ ভাগে বিভক্ত করেছেন। একটি হলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। আর অন্যটি হলো বিপক্ষের শক্তি। খালেদা ও জিয়াউর রহমান বার বার যুদ্ধপরাধীদের পুনর্বাসন করেছেন।এভাবেই আজ জাতি ২ ভাগে বিভক্ত হয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সঙ্গে বিরোধীদের কোন সংলাপ বা সমঝোতা হতে পারে না।
যারা সংলাপের কথা বলছে, তাদের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা কিসের জন্য সংলাপের কথা বলছে। দেশের বর্তমান সঙ্কট হচ্ছে পেট্রোলবোমা হামলাকারী। আর সেটা যদি বিএনপি না করে থাকে।তাহলে তাদের সঙ্গে কিসের সংলাপ। সংলাপ হবে যারা নাশকতা করছে তাদের সঙ্গে।
তাছাড়া বিএনপি নিজেরাই তো জানে না তাদের দাবি কি? তাহলে সংলাপের প্রশ্ন কেন?। তবে বিএনপি-জামায়াত যদি দেশের সকল নাশকতার দায় স্বীকার করে নেয়। তাহলে আমরা ভেবে দেখবো পরবর্তীতে আমরা কি সিদ্ধান্ত নিতে পারি।
তিনি আরও বলেন, বুদ্ধিজীবীরা সংলাপ সংলাপ করে বিএনপিকে আড়াল করছে। যারা সন্ত্রাসী করছে তাদের নিষেধ না করে সংলাপ সংলাপ করে সরকারকে চাপ সৃষ্টি করছেন। তাদের কাছ থেকে জাতি এটা কখনো আশা করে না।
হানিফ বলেন, বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার হরতাল-অবরোধ দেশের মানুষ মানেন না। তাই তিনি (খালেদা জিয়া) মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে পেট্রোলবোমা দিয়ে মানুষ মারছেন। এটা আন্দোলন হতে পারে না। এটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।
তিনি বলেন, দাবি-দাওয়া আদায় করতে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করতে হবে। এটা বিশ্বের কোথাও নেই। এটা জঙ্গি গোষ্ঠিরা করে থাকে। খালেদা-তারেক এই দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র পরিণত করতে চায়। তাদের সে স্বপ্ন কখনো বাস্তবায়ন হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কৃষি বিষায়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক, শ্রম বিয়ায়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, স্বাস্থ্য বিষায়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষায়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কার্যনির্বাহী সদস্য সুজিত রায় নন্দী, এনামুল হক শামীম প্রমুখ।
এমআর/ এআর





