আওয়ামী লীগকে জঙ্গি ও রাজাকারের সবচেয়ে বড় আশ্রয়দাতা আখ্যায়িত করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগের ঘরেই প্রকৃত রাজাকার ও জঙ্গি রয়েছে।
শনিবার বিকালে জামালপুর জেলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জামালপুরের মাওলানা নুরুল ইসলাম ছিলো কুখ্যাত রাজাকার। এই রাজাকারকে আব্দুস সালাম তালুকদারের বিরুদ্ধে মনোনয়ন দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। কারচুপির মাধ্যমে পাশ করিয়ে পরে তাকে মন্ত্রী বানিয়েছিল। এছাড়া শায়েখ আব্দুর রহমান আওয়ামী লীগের নেতা মির্জা আযমের ভগ্নিপতি। আওয়ামী লীগই জঙ্গিবাদ ও রাজাকারদের লালন করে।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সাথেই সংলাপে বসতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দিতে হবে।
আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা অতীতে যেভাবে রাস্তা ঘাট বন্ধ করে আন্দোলন করেছিলেন। আমাদেরকেও সেভাবেই আন্দোলন করতে হবে। ঈদটা পার করেন। ঈদের পর সরকার পতনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। দল মত নির্বেশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে এ সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
গণতন্ত্র থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় না প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, লুটপাট ,চুরি, দুর্নীতি করার জন্য হাসিনা বলছে দেশে গণতন্ত্র থাকলে দেশে উন্নয়ন হয় না। এই গণতন্ত্রের জন্য আমরা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছি। গণতন্ত্র না থাকলে জবাবদিহিতা থাকে না। মহাজোট সরকার দুর্নীতিবাজ, চোর, খুনী সরকার। তারা দেশের জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করছে। এসব অপকর্মের জন্য যাতে জবাবদিহি না করতে হয়, সেজন্য গণতন্ত্র বিরোধী কথা বলে হাসিনা।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি দেশে কোন নির্বাচন হয় নাই। ১৫৪ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত ১৪৬ জন বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার কেহ ভোটে নিবর্বচিত হয় নাই। তাই এ সরকারকে বৈধ সরকার বলা যায় না। এদের সংবিধান সংশোধন করার কোন অধিকার নেই। এদের জনগণ সংবিধান সংশোধন করার অধিকার দেয় নাই।
আওয়ামী লীগ একটা ছ্যচড়া দল মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তাদের মান সম্মান নিয়ে বিদায় হওয়ার সময় এসছে। ভালয় ভালয় সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাড়ান।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না, তার বড় প্রমাণ বিগত উপজেলা নির্বাচন। যদিও উপজেলা নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হয় না। সেই নির্বাচনেও তারা কারচুপি করে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তাই তাদের দারা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
২০ দলীয় জোট নেত্রী বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। কোন মানুষ নিরাপদ নয়। হউক ঘরে বা বাহিরে। আমরা র্যাব বানিয়ে কোন দলীয় বা রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করেনি। আর হাসিনা র্যাব দিয়ে মানুষ হত্যা করছে। অন্যদিকে দেশের মানুষ খুন করছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। তাই এ বাহিনীর বিলুপ্ত করতে হবে।
ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতেই সংবিধান সংশোধন করছে সরকার এমন মন্তব্য করে বেগম জিয়া বলেন, সব প্রতিষ্ঠানকে হাসিনার পকেটে নিয়ে গেছে। প্রশাসন, আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, দুদক, গণমাধ্যমসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মাধ্যমে ধংস করে দিয়েছে।
সরকারের করা বিভিন্ন আইনের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ করতে জাতীয় সম্প্রচারনীতিমালা করেছে। টকশো'তে সরাকরের নির্দেশে বিষয় বস্তু আলোচনা করতে হয়। কেউ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে না। বিচার বিভাগের অভিশংসনের মাধ্যমে বিচবারপতিদের ভয়ে রেখে সঠিক বিচার কাজে বাধগ্রস্থ করবে।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপিকে ভয় পেয়ে আপনারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছেন। লোভ লালসা দেখিয়ে কাউকে কাউকে ভাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তাতে লাভ হবে না। জোট ভাঙবে না। জোট অটুট আছে এবং থাকবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি ফরীদুল করিম তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মইন খান, নজরুল ইসলাম খান,বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, যুগ্ম-মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান,শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাম্যবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, কল্যাণ পার্টির এমএম আমিনুল ইসলাম, বিজেপির সালাউদ্দিন মতিন, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি প্রমুখ।
ঢাকা, এমএইচ, ২৭ সেপ্টেম্বর,টাইমনিউজবিডি.কম





