একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী পাঁচজন নেতাকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে একজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর খোঁজ এখনও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ বিএনপির।

এছাড়াও তফসিল ঘোষণার পর নতুন ৫৫ মামলায় ৫২৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের অভিযোগ করেছে দলটি।

বুধবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের একটি তালিকা জমা দিয়েছে বিএনপি।

দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মামলা ও তথ্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন খানের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল এসে এই তালিকা জমা দেয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর।

গ্রেফতার হওয়া মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন, বাগেরহাট-৪ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতা মো. ইব্রাহিম হোসেন, গাইবান্ধা-২ আসনে দলের গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান খান বাবু, নেত্রকোনা সদর-২ আসনের ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি মো. আনোয়ারুল হক রয়েল, ঢাকা মহানগর-১০ আসনের ঢাকা দক্ষিণ মহানগর দক্ষিণ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি ও যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আবুবক্কর আবু।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদেরও গ্রেফতার ও আটকে রাখছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ পর্যন্ত মনোনয়নপ্রত্যাশী পাঁচজনকে আটকের পর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মনোনয়নপ্রত্যাশী একজনকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা ও গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের তালিকা এর আগে দুইবার দলের পক্ষ থেকে ইসিকে দেয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট মামলার তালিকা দেয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেপরোয়া। কয়েকদিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে দিনের পর দিন আটক রেখে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। আবার কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে আটকের পর গুম করে রাখা হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তাল্লাশিও চলছে।’

এ সময় তফসিলের পর গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের তালিকাও ইসির কাছে তুলে দেয় বিএনপি। চিঠিতে গ্রেফতার-হুমকি বন্ধ ও মামলা থেকে দলের নেতাকর্মীদের মুক্তির জন্যও বলে বিএনপি।