এই অবৈধ সরকারের হাত থেকে দেশের মানুষ মুক্তি চায় মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আমাদের যতই বাধা দেয়া হোক মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা রাজপথে নামবই। সব বাধা পেরিয়েই আন্দোলনে সফল হবেই।
শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে সুপ্রীম কোর্ট বার কাউন্সিলের নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সাক্ষাত করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।
অবৈধ এই সরকারের কোনো গণভিত্তি নেই মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এজন্য তারা জোর জবরদস্তি করে ক্ষমতায় টিকে আছে। দেশের মানুষের সঙ্গে বিদেশিরাও প্রতিনিয়ত বলছে যে, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশের জনগণের মতামতের প্রতিফলিত হয়নি। তাই দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।
তিনি সরকারের কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, এই সরকার কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক কর্মসুচি সহ্য করতে পারে না। এ প্রসঙ্গে তিনি ২৯ ডিসেম্বরের মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসুচির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন আপনারা দেখেছেন কীভাবে আমি বিরোধী দলীয় নেত্রী হওয়ার পরও আমাকে বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল। আমাদের মহিলা দলের নেতাকর্মীদের নারী দিবসের অনুষ্ঠান করতে দেয়নি। অথচ তারা রাস্তা বন্ধ করে সভা সমাবেশ করছে।
এই অবৈধ সরকার একটি দুর্বল ও ভীত সরকার, এদের কারণে আজ দেশে আইনের শাসন নেই, ন্যায় বিচার নেই, বিচারকরা কোনো ন্যায় বিচার করতে পারেন না। ওপর থেকে সরকার যে নির্দেশ দেওয়া হয় তাই বাস্তবায়ন করতে হয়।
সুপ্রীম কোর্ট বার কাউন্সিলের নির্বাচনে বিজয় লাভ করায় আইনজীবীদের প্রশংসা করে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকার কারণেই আজ আমাদের এই বিজয় অর্জিত হয়েছে। আপনারা সিনিয়র-জুনিয়র সবাই মিলে অক্লান্ত পরিশ্রম করার ফলেই ঢাকা বারের পর সুপ্রীম কোর্টেও আমরা জয়লাভ করেছি। এর মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে একটি বার্তা পৌঁছেছে যে, এই সরকারকে মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বর আপনারা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমেছিলেন, কিন্তু সরকার আপনাদের কীভাবে নির্যাতন করেছে তা দেশবাসী দেখেছেন, আপনারাও দেখেছেন। আপনাদের ওপর যদি এভাবে নির্যাতন করা হয় তাহলে দেশের সাধারন মানুষের কী অবস্থা তা সহজেই বুঝা যায়।
দেশের মানুষের প্রতি সরকারের কোনো দরদ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রতি ভালবাসা না থাকলেও প্রতিবেশী দেশের প্রতি তাদের ভালবাসা ও দরদের কমতি নেই। তাই সরকার তাদের  সব উজার করে দিয়ে দিলেও দেশের জন্য কিছুই অর্জন করতে পারেনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন ১৯ দলের বাইরে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন সবাই মিলে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামি। আন্দোলনের মাধ্যমে এদের বিদায় করতে হবে।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের সমালোচনা করে খালেদা বলেন, সরকার নিজেদের লোকদের পকেট ভারী করতেই বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে সাধারন মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। কারন এই বিদ্যুতের দামের সঙ্গে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তিনি দলীয় আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নিজেদের উদ্যোগে লিগাল কমিটি গঠন করুন যাতে করে সারা দেশের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে পারেন। এছাড়াও মাঝে মধ্যে জেলা বারগুলোতে সফরে যাবেন। এতে বারগুলোতে আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং দল সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে।
এর আগে রাত বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৯ দলীয় জোট নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও  সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকনের নেতৃত্বে বিজয়ী ১৩ জন আইনজীবী নেতা সাক্ষাত করেন। এসময় খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অনাড়ম্বর এই অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও নির্বাচিতদের মধ্যে সহ-সভাপতি মো. খালেদ আহমেদ  ও রফিকুল ইসলাম মেহেদি, সহ-সম্পাদক একেএম রেজাউল করিম খন্দকার ও নাসরিন আক্তার, কোষাধ্যক্ষ  মাসুদ আহমেদ সাইদ, সদস্য আফসানা রশিদ শুভ্রা, মো. আসাদুজ্জামান আনসারী, মো. মোস্তফা কামাল, মোহাম্মদ আইয়ুব আলী আশরাফি, সালমা বেগম ও শামীমা আক্তার বানু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।
[b]ঢাকা, এমএইচ, ১৫ মার্চ (টাইম নিউজবিডি.কম)// কেবি[/b]