জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে অতিমাত্রার রাজনীতি না করার আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
শনিবার শিবিরের পক্ষ হতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এই আহবান জানিয়েছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত।
তারা বলেন, সম্প্রতি গুলশানে যে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে তা কোন দল বা ব্যক্তির সমস্যা নয় বরং তা জাতীয় সমস্যা। এসময় দলমত ভূলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এ সমস্যা মোকাবেলা করা উচিৎ। কিন্তু এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও দলীয় মিথ্যাচার রাজনৈতিক নোংড়ামি ছাড়া কিছু নয়।
তারা আরো বলেন, "রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নাসিম সাহেবের মত নেতাদের দায়িত্বহীন বক্তব্য দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা একটু ভাবা দরকার। তাদের প্রতিটি মিথ্যাচার আরেকটি অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আমরা বলব, আপনাদের এই দায়িত্বহীন আচরণে জনগণ চরম বিরক্ত ও ক্ষুদ্ব। জনগণকে আর বিরক্ত না করে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই জাতিয় সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।"
ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে শিবির নেতৃদ্বয় বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার সাথে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ দায়িত্বহীন, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি সাংবাদিকদের দেয়া বক্তব্যে বলেছেন, হামলাকারীরা প্রশিক্ষিত শিবিরকর্মী। যা উদ্ভট মস্তিস্কের কল্পনা প্রসুত বক্তব্য ছাড়া কিছুই নয়।
তারা বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এর আগেও নানা ধরণের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে জাতির কছে হাস্যরসের পাত্রে পরিণত হয়েছেন।
শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের না ধরে সেখানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী-এমপিরা ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল ও বিরোধীদল দমনের হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহার করেছেন। দেশের এই ভয়াবহ অবস্থার মধ্যেও নাসিম সাহেবরা তামাশা করতে দ্বিধা করছেন না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, "কোন প্রকার তথ্য প্রমাণ ছাড়াই সরকারের এই দোষারোপের রাজনীতির কারণেই দেশে জঙ্গিবাদ আজ শিকড় গেড়ে বসেছে বলে আমরা মনে করি। ইটালীর গণমাধ্যমের উদ্বৃতি দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনেও চলমান জঙ্গী উত্থানের জন্য দোষারোপের রাজনীতিকেই দায়ী করা হয়েছে।"
তারা বলেন, আমরা নাসিম সাহেবের কাছে প্রশ্ন রেখে বলতে চাই, দেশে জঙ্গীবাদের ধুয়া তুলে পবিত্র রমজান মাসে সাঁড়াশি অভিযানের নামে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীসহ প্রায় বিশ হাজার জনগণকে গ্রেপ্তার করেছেন। কিন্তু এর পরেও দেশে এত বড় ঘটনা কিভাবে ঘটে? আরো কত হাজার জনগণকে গ্রেপ্তার করলে দেশে আর এই ধরণের ঘটনা ঘটবেনা? জনগণ তা জানতে চায়।
এমআইএস





