ইসলাম ধর্ম প্রচারক ডা. জাকির নায়েক’কে কখনও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

শনিবার (০৭ জুলাই) দুপুরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি’তে আলোচনা শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। খবর পিটিআই।

‘ভারত-বাংলাদেশ: ঐতিহাসিক ও সমকালীন প্রেক্ষাপট’শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে ভারতের ‘থিংক ট্যাংক’অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ)।  

প্রশ্নোত্তরকালে জাকির নায়েককে তাঁর দেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারতকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কখনই তাঁর ভূমিকে নয়াদিল্লির প্রতি শত্রু ভাবাপণ্ণদের ব্যবহার করার অনুমতি দেবে না।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা পুরোপুরিভাবে ভারতকে সহযোগিতা করব। আমাদের সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাঁর ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। বাংলাদেশের মাটি কখনই আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে শত্রুভাবাপণ্ণদের কাউকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। 

জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত দিবে না মালয়েশিয়া  

ভারত সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও খ্যাতিমান ইসলামি বক্তা জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মাদ। শুক্রবার (০৬ জুলাই) কুয়ালালামপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মাহাথির একথা জানান।  

৫২ বছর বয়সী জাকির নায়েক এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। গত বছর ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরায় উগ্রবাদীদের হামলায় জড়িতদের অন্তত দুইজন টেলিভিশন বক্তা জাকির নায়েককে অনুসরণ করতো এমন খবর প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়। ওই বছর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে ভারত ছেড়ে যান তিনি।

কিছুদিন সৌদি আরবে থাকার পর মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মালয়শিয়া সরকার তাকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দিয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এই বছরের জানুয়ারিতে তাকে ফেরত পাঠাতে মালয়েশিয়াকে অনুরোধ জানায় ভারত। দেশ দুটির মধ্যে প্রত্যার্পণ চুক্তি রয়েছে।

বুধবার ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, তাকে মালয়েশিয়া থেকে ভারত ফিরিয়ে আনা হবে। এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর জনসংযোগ কর্মকর্তার মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাকির নায়েক বলেন, আমার ভারতে ফিরে আসার খবর ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। অবিচার থেকে নিরাপদবোধ করার আগ পর্যন্ত ভারতে ফেরার কোনও পরিকল্পনা আমার নেই।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় ভারতে। জানুয়ারিতে তার নামে জারি হয় সমন। এরপর আরও তিনবার সমন জারি হয় তার বিরুদ্ধে। তবে জাকির নায়েক ভারতে ফেরেননি। ভারত সরকার তার প্রতিষ্ঠিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে।

এমবি