সরকারের কঠোর মানোভাব আর নেতাদের গা বাছানোর কারনে বারবার আন্দোলনের ডাক দিয়েও রাজপথের আন্দোলনে খুব সফল হতে পারেনি ২০০৬ সালে অক্টোবরে ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়া বিএনপি।

তবে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের বিরতি দিয়ে সংগঠন গোছানের কাজে মনযোগি হয় দলটির নীতিনির্ধারকরা। আর এজন্য  রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকেই বিএনপি চেয়ারপারসন দল পূনর্গঠন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজপথের পরীক্ষিত অপেক্ষাকৃত তরুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে এবার দলের নেতৃত্ব বাছাই করেতে চান তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী কাউন্সিলকে সামনে রেখে দেশ ও দলের স্বার্থে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে নেতৃত্ব নির্ধারণ তৈরি করবে বিএনপি। দলের সাংগঠনিক শক্তি জোরদার করে ঈদের পরে রাজনীতির মাঠে চমক দেখাতে চায় বিএনপি। তবে সেজন্য খুব বেশি সময় নিতে চায় না বিএনপি হাইকমান্ড। সব মিলিয়ে আগামী ঈদুল আজহার পরপরই জাতীয় কাউন্সিল করতে চায় দলটি।

এরপরই ধাপে ধাপে নতুন করে আবারো রাজপথের আন্দোলনের দিকে যাবে বিএনপি। চলতি বছরের শেষ দিকে সরকারকে সর্বশেষ ধাক্কা দিতে চায় রাজপথের আন্দোলনকারী দলটি।
দলপুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এরইমধ্যে কয়েকটি অঙ্গ সংগঠনের কমিটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ঈদের পরপরই পর্যায়ক্রমে এসব কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে। এছাড়া দলের বিভিন্ন জেলা কমিটি, ঢাকা মহানগর বিএনপি, ছাত্রদলসহ অন্যান্য কমিটিও পূর্নাঙ্গ করা

সম্প্রতি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিনিয়র নেতাদের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বেগম জিয়া দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের তৃণমূলে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।

সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বেগম জিয়া রমজান মাসের আগে সারা দেশের কয়েকটি জেলার প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা ও মত বিনিময় করেছেন। ঈদের পরে দল ও জোটের প্রতিটি অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি দেশের সুশীল সমাজ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দের সঙ্গে ইফতার অনুষ্ঠানে মতবিনিময় করবেন। উদ্দেশ্য হলো, আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামের সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করা। যাতে করে আন্দোলন চূড়ান্ত বিজয়ে পরিণত হয়।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান টাইমনিউজকে বলেন, চেয়ারপারসনের নির্দেশনায় বিএনপির দল গোছানোর কার্যক্রম চলছে। এরই অংশ হিসেবে রোজার পরে দলের কয়েকটি অঙ্গ সংগঠনের কমিটি ঘোষণার কথা শুনেছি। এর চেয়ে বেশি আমি কিছু বলতে পারছি না।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য লে.জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান টাইমনিউজকে বলেন, রমজান মাস জুড়েই দলের সাংগঠনিক বিষয়ে কাজ চলছে। ঈদের পরে বিএনপি একটি পুরো শক্তির দল হিসেবে আর্বিভুত হবে। নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য যে ধরনের নেতৃত্ব প্রয়োজন সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ টাইমনিউজকে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। দলের নেতৃত্ব পুনর্গঠন একটি রাজনৈতিক দলের নিয়মিত কার্যক্রম। তবে সময়ের চাহিদার প্রতি নজর রেখে বিএনপি এবার রাজপথের পরীক্ষিত ও আন্দোলন সংগ্রামে যোগ্যদের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেবে দলের নেতাকর্মীরা সেটিই প্রত্যাশা করে।

এমএইচ