বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আলকায়দা জেএমবি’র উত্থানের আগে ইনু সাহেবের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে এর রক্তাক্ত তান্ডবের প্রকোপ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। সেই সময়ে হাসানুল হক ইনুর আচরণ ছিল লাদেন-জাওয়াহেরী ও শায়খ আব্দুর রহমানদের সমতুল্য।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, কেবলমাত্র একদলীয় রাজত্বেই গবু চন্দ্র মন্ত্রীরা বিরোধী দল এবং নেতানেত্রী সম্পর্কে দিনরাত অষ্টপ্রহর হুমকি আর কুশ্রাব্য কথা বলতে পারে। এ বিষয়ে ভোটারবিহীন সরকারের মন্ত্রী ও শাসক দলের নেতাদের প্রতিযোগিতায় সবচাইতে এগিয়ে আছেন তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তার প্রতিদিনকার বক্তব্য বিবৃতি পড়লে মনে হয় যে, বিএনপি ও বিএনপি চেয়ারপার্সন এর বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক কথা বলতে পারার ওপরই তার মন্ত্রীত্ব নির্ভর করছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে হাসানুল হক ইনুসহ জাসদের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে পূণ:পূণ: অভিযোগ শুনে আসছি যে, ৭২-৭৫ এ প্রথমবার আওয়ামী শাসনামলে রক্ষীবাহিনীর হাতে জাসদের ৩০/৩৫ হাজার নেতাকর্মী মারা গেছে। এই অভিযোগ যদি সত্য হয় তাহলে হাসানুল হক ইনু তার দলের শহীদদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে হত্যাকারীদের সাথে হাত মিলিয়েছেন শুধুমাত্র ক্ষমতার প্রসাদ হাতে পাওয়ার জন্য। আর যদি ইনুদের অভিযোগ মিথ্যা হয় তাহলে আজকের আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী কেন মিথ্যা অভিযোগের জন্য হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।
রিজভী আরও বলেন, আসলে আজকে যে জঙ্গীবাদের উৎপত্তি তা হাসানুল হক ইনুদের ৭২-৭৫ এর সহিংস কর্মকান্ড থেকেই শুরু হয়। লাদেনের আবির্ভাবের আগে জঙ্গীবাদের যে স্বরুপ দেশবাসীসহ বিশ্ববাসী প্রথম দেখেছে তাহলো-৭০ দশকের প্রথমার্ধে হাসানুল হক ইনুদের গণবাহিনীর সহিংস তান্ডব। থানা লুটসহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যাসহ বিভৎস সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এখন ইনু সাহেব তার নিহত কর্মীদের ঘাতকদের সঙ্গে ক্ষমতার ডালে বাদুর ঝোলা হয়ে ঝুলতে গিয়ে শুধুমাত্র সেইসময়ের নিহত জাসদের কর্মীদের আত্মাকেই অপমান করেননি, সাথে সাথে গণতন্ত্রকেও গ্রাস করে নিতে এখনও প্ররোচকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন হাসানুল হক ইনু।
বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, যারা নিজের দলের শহীদদের আত্মত্যাগকে উপেক্ষা করে তাদের সাথে বেঈমানী করতে পারে তারা ক্ষমতার ডাল থেকে পড়ে গেলেই দেশের রাজনৈতিক আবর্জনাতে পরিণত হতে খুব বেশী সময় লাগবেনা। ইতিহাসে মিরজাফরেরর যে স্থান ইনুরা সেই স্থানেই থাকবে। খুব বেশীদিন নয়, অচিরেই দেশে গণতন্ত্র হত্যা, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে নিধন, বিচারবহির্ভূত হত্যার ইন্ধনদাতা হিসেবে মানুষের আদালতে যাদের বিচার হবে তাদের মধ্যে হাসানুল হক ইনু ও বিচারপতি খায়রুল হক’রা ওয়েটিং লিষ্টে থাকবেন না, ফাইনাল লিষ্টেই থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দীন আলম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লা মিয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।
এমএইচ





