এই আওয়ামী লীগ সরকার ডেঙ্গুর চেয়েও ভয়ানক বলে মন্তব্য করেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত যত মানুষ মারা গেছেন, তার চেয়ে গুম,খুন,নারী নির্যাতনে লাশের মিছিল অনেক বড়। তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে ডেঙ্গুর চেয়ে ভয়াবহ কে? এই সরকার। এই সরকার ডেঙ্গুর চেয়েও ভয়ানক।

আজ শনিবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মানবাধিকার ও আইনের শাসনের চরম অবনতি: কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনার এসব কথা বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এডিস মশা আওয়ামী লীগ চেনে না, বিএনপিও চেনে না। সরকারি দল চেনে না, ধনী-গরিব চেনে না। তাই ডেঙ্গু সমস্যার সমাধান মিলে-মিশে করতে হবে, সম্মিলিতভাবে করতে হবে।

গয়েশ্বর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে ‘সিটি করাপশন’ উল্লেখ করে বলেন, এই দুই সিটি ভবন মানে এখানে ‘করাপশনের’ আড্ডাখানা। তিনি বলে, প্রতি বছর মশা মারার নির্ধারিত বাজেট আছে। মশা মারার একটা প্রকল্প আছে, তাদের সুনির্দিষ্ট বিভাগ, কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে। প্রতি বছর ওষুধ কেনা হয়। এগুলো কী হয়? এগুলো যা হওয়ার তাই হয়। এগুলো ভাগাভাগি হয়। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন মশা মারার কাজটি সঠিকভাবে করলে ডেঙ্গুর সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করত না।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি দূর্বল। আর সরকার কোনও ভালো অবস্থানে নেই। আরেক জন (প্রধানমন্ত্রী) চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গিয়েছেন, এদিকে দেশের অবস্থা ভয়াবহ। কিন্তু তার চেয়ে মনে হয় প্রধানমন্ত্রীর অবস্থা ভয়াবহ। তা না হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খুব তাড়াতাড়ি চিকিৎসা বন্ধ করে তিনি আসতে পারতেন’।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘দেশের মানুষ বন্যায় ভাসছে কিন্তু তিনি আসতে পারছেন না। তাহলে তিনি কঠিন অবস্থার মধ্যে আছেন। এর কারণে পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে তিনি আসতে পারছেন না। শোনা যাচ্ছে, নানা রকম সমস্যা। আর চোখের আলোটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বেশি জরুরি। তাহলেইতো মানুষের চোখের দিকে তাকালে তাদের চোখের ভাষাটা কি, তা বুঝতে পারবেন।

তবে আমরা চাই, আল্লাহ উনার চোখ ভালো করুক। আল্লাহ তার চোখ, শরীর ও ভাবনাটা সুস্থ করুক। আর আল্লাহ যেনো উনাকে মানুষকে ভালোবাসার তৌফিক দেন। কারণ আমরা কোনও মানুষের অমঙ্গল কামনা করি না।

বিএনপি নেতা বলেন, গণপিটুনির আড়ালে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না? সে বিষয়টি সামনে আনতে হবে। সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, এর সঙ্গে বিরোধী দলের হাত আছে। তার মানে কি? তার মানে, দেশকে চরম একটা অবস্থানের মধ্যে ফেলে দেওয়া এবং কোনো একটা সময়ে তারা নিজেরাই দেশ ছেড়ে কেটে পড়ে কি না।

সেমিনারে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, রবিউল আলম, কৃষকদলের আহ্বয়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মাদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এএস