খালেদা জিয়াসহ পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাদের সম্পর্কে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ বানোয়াট ও রাজনৈতিক হীনউদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি।
রোহিঙ্গা-চাল সংকটসহ চলমান ইস্যুগুলো থেকে জনদৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে নতুন ইস্যু তৈরি করতেই এসব মিথ্যাচার করা হচ্ছে বলে দাবি দলটির।
বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব মন্তব্য করেন।
একইসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে তার কেরানীগঞ্জের বাড়ির দুস্থদের মাঝে বস্ত্রবিতরণ কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার নিন্দা জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘আসলে এ সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার নামে মুখোশ পরে আছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিয়া পরিবারের সদস্যদের বিদেশে টাকা পাচারের তদন্ত হচ্ছে এবং বিএনপির সিনিয়র নেতাদের টাকা পাচারের তদন্ত হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী যেসব মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও হাস্যকর। ওইসব উক্তি অত্যন্ত মানহানিকর এবং আমি মনে করি যে, হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছে। আমরা এ মিথ্যাচারের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।’
মহাসচিব বলেন, ‘হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ ধরনের মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করে রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলার ব্যর্থতা ঢাকতে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রীরা অবলীলায় মিথ্যাচার করছেন। গোটা বিষয়টা করা হচ্ছে প্রকৃত যে ইস্যুগুলো আছে- তা থেকে জনদৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়া ও নতুন ইস্যু তৈরি করা।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বুধবার সংসদে জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমাম যেসব তথ্য দিয়েছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী যে কথাগুলো বলেছেন তার মূল সোর্স হচ্ছে একটি অনলাইন পোর্টাল। ওই অনলাইন বলেছে যে, তারা গ্লোবাল নেটওয়ার্ক থেকে পেয়েছে। আমরা গ্লোবাল নেটওয়ার্ক সার্চ করেছি, তাতে এ ধরনের কোনো তথ্য পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, খালেদা জিয়ার বড় বোন খুরশিদ জাহান হক চকলেটের নামে অ্যামিরাটস হিলসে একটি অ্যাপার্টমেন্ট আছে যার মালিকানা সম্প্রতি তার মেয়ে হাসিনা জাহানের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটা ডাহা মিথ্যা। তাদের গোটা স্টোরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। খুরশিদ জাহান হকের কোনো মেয়ে নেই।’
মহাসচিব বলেন, ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বন্যা-পরবর্তী সংকট মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান, চালের দাম কমাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতা ঢাকতেই এভাবে দেশনেত্রীসহ দলের নেতাদের নামে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। এসব মিথ্যাচারের জবাব জনগণ দেবে।’
ফখরুল বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ২২ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে ১৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার থেকে উখিয়া রওনা দিলে পুলিশ বাধা দেয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের নামে সরকারি অর্থে ত্রাণ বিতরণ করেন। ত্রাণের নামে আওয়ামী লীগের বিশাল লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করে, অন্যদের ত্রাণ দিতে বাধা দেয়া মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, হাবিবুল ইসলাম হাবিব,আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, খন্দকার মারুফ হোসেন হোসেন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, নাজিমউদ্দিন মাস্টার প্রমুখ।





