‘আমার ছেলে মেজবাহ চলতি মাসে চাকুরি ছেড়ে দিয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিল।কোরবানি ঈদের আগেই মালয়েশিয়া চলে যাওয়ার কথা ছিল তার।কিন্তু ডিবি পুলিশ আমার নিরাপরাধ ছেলেকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে।
কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় গত রোববার সকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত মেজবাহ উদ্দিন তারেকের (২৪) পিতা আবু জাফর সিকদার।
তাদের বাসা কদমতলী থানার দনিয়ায়।তিন ছেলের মধ্যে মেজবাহ বড়।গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার কদুয়ায়।রোববার সাংবাদিকরা বাড়িতে গেলে নিহতের পিতা আবু জাফর এসব তথ্য জানান।
তার অভিযোগ, বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডিবির একটি দল মেজবাহকে হত্যা করেছে।থানা, ডিবির কার্যালয় ঘুরে ১৬ ঘণ্টার পর মর্গে গিয়ে মেজবার লাশ শনাক্ত করা হয়েছে।
পিতার দাবি, সম্পূর্ণ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি মিজবাহকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে।মিজবাহের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
আবু জাফর বলেন, রোববার ভোর চারটার দিকে ডিবি পরিচয় দিয়ে একদল দল লোক বাসায় প্রবেশ করে।অভিযোগ আছে দাবি করে তারা মেজবাহকে আটক করে।এরপর বাসার বাইরে নিয়ে গিয়ে বেদম মারধর শুরু করে।পরে গাড়ীতে উঠিয়ে নিয়ে কোথায় যে চলে গেলো তা জানতে পারিনি।
আবু জাফর বলেন, ছেলের বিরুদ্ধে ডিবির কাছে কি তথ্য আছে তা বিস্তারিত জানতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের সামনে যাই।কিন্তু বিকাল ৫টা পর্যন্ত ডিবি কার্যালয়ের ফটকের সামনে অপেক্ষা করলেও আমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।পরে ৫টার পর এক ডিবি সদস্যের পরামর্শে কদমতলী থানায় যাই।
কদমতলী থানায় গিয়ে জানতে পারি মেজবাহ নামের এক ছেলে ডিবি পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।কদমতলী থানা পুলিশের পরামর্শে ঢামেক মর্গে গিয়ে ছেলের লাশ সনাক্ত করেন বলে জানান তিনি।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এইচএসসি পাশের পর ওষুধ কোম্পানিতে এক বছর চাকরি করেন মেজবাহ।এরপর আরও দু’বছর আদমজীতে ইপিজেডে।চলতি মাসে চাকরি ছেড়ে শিক্ষার্থী ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন মেজবাহ।
তবে এব্যাপারে ডিবি পুলিশ ও কদমতলী থানা পুলিশের দাবি মেজবাহ অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসার সাথে জড়িত।
এ ব্যাপারে রোববার রাতে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানায়, রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় নিহত যুবকের নাম তারেক মাসুদ।তিনি অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী।
তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, নয়টি গুলি, সাতটি গুলির খোসা, একটি চাপাতি ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।ঘটনার সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।তারেকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি ছিল কিনা, সে ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।
এব্যাপারে কদমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুস সালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘মেজবাহ উঠতি সন্ত্রাসী।তবে মেজবাহের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডি আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
ডিএমপি’র পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, গত শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগে তারেককে কদমতলী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেজবাহ জানিয়েছে, কদমতলী ও মাতুয়াইল এলাকার সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী চান্দি সুমন ও কিলার শামিম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মেজবাহ।
দলের সদস্যদের কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে মেজবাহের দেয়া এমন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার ভোরে রাজধানীর মুগদা’র মান্ডা এলাকার গ্রিন মডেল টাউনসংলগ্ন বালুর মাঠে তার চারজন সহযোগীকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ।ডিবির দল সকাল সাতটার দিকে ওই মাঠে অবস্থান নেয়।
শনাক্তের সুবিধার্থে তারেককে তার সহযোগীদের সঙ্গে একত্র হওয়ার কথা বলা হয়।কিন্তু তারেক সেখানে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে এক সহযোগীর কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকেন।অন্য সহযোগীরাও গুলি চালাতে থাকেন।
তখন পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।পরে ঘটনাস্থল থেকে মেজবাহকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে মুগদা থানার পুলিশ।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করোনো হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক সূত্র জানায়, মেজবাহের মুখের ডান পাশে ও বুকে ছিদ্র আছে।সারা শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।রাত আটটা পর্যন্ত মর্গে অজ্ঞাতনামা হিসেবেই লাশ পড়ে ছিল।পরে স্বজনেরা মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
ঢাকা, জেইউ, ১৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





