বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকার অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর বক্তব্য দিচ্ছে। লন্ডনে বেগম খালেদার চিকিৎসা চলছে। সরকার সবই জানে। সব জানা সত্ত্বেও বাজে কথা বলছে।
শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলয়তনে ঐতিহাসিক জেহাদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকারের লোকজন বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গে জড়িয়ে কথা বলেছে। প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যোগাযোগমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছেন। আওয়ামী লীগ নেতা জাফরউল্লাহ বলেছেন, আইএসের দরকার নেই। বিএনপি- জামায়াতই আইএস। এসব কথা অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর ছাড়া কিছু নয়।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশীরা আমাদের মেহমান। তাদের নিরাপত্তা না দিতে পারলে অর্থনীতিতে বিরুব প্রভাব পড়বে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিদেশী নাগরিক সহ দেশের সকল মানুষেল নিরাপত্তার আহবান জানাই। বিদেশীরা না আসলে কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। শ্রমিকরা বেকার হয়ে যাবে। দেশের অর্থনীতি ক্ষতি হবে। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট হবে।
তিনি বলেন, সরকার গণবিরোধী হয়ে উঠেছে। সরকারের একজন এমপি মদ্যপান করে শিশুর উপর গুলি করেছে। এসব লোকদের গ্রেফতার করা জরুরী। এদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিলে কেউ এ ধরনের ঘটণা ঘটাতে সাহস পাবে না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এদেশের সংখ্যাগরিস্ট লোকদের বাদ দিয়ে একটি তামাশার নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় বসে আছে। এটা নির্বাচন ছিল না। এটা ছিল আসন ভাগাভাগি। এখন যা চলছে তা গণতন্ত্র নয়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমাদের লড়াই রাজপথে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্র পুন:উদ্ধারের। আমরা বলি না আমাদের ক্ষমতা দিয়ে দিন। আমরা বলছি জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে।
নাজির উদ্দিন জেহাদের স্মৃতিচারন করতে গিয়ে নজরুল বলেন, শহীদ জেহাদের রক্ত দিয়ে তৈরি হয়েছিল সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য। তার রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার আত্মার প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। তবে গণতন্ত্র পুন;উদ্ধার করতে না পারলে জেহাদের শ্রদ্ধা অবদান বিলীন হয়ে যাবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হবে।
বিএনপির সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্ব করেন। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা রফিক শিকদার। আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ,৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, খন্দকার লুৎফর রহমান, সাইফুদ্দিন মনি, আকসাদুর রহমান, শহীদ জেহাদের বড় বোন চামেলী মাহমুদ প্রমুখ।
এমএইচ





