দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ ছাড়লেন উপজেলা চেয়ারম্যান ইসহাক আলী বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি পদত্যাগ করেন।
তিনি বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদকের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি বরাবর আমি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক আবদুল মালেক বলেন, ‘তিনি (ইসহাক আলী বিশ্বাস) একজনের মাধ্যমে আমার কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। সেটি জেলা বিএনপির সভাপতি বরাবর লেখা। শুক্রবার সকালে পদত্যাগপত্রটি জেলা বিএনপির সভাপতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’
জানা গেছে, ইসহাক আলী বিশ্বাস ২০০৪ সাল থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদে ছিলেন। এর মধ্যে সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গোদাগাড়ীর রিশিকুল ও পাকড়ি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গোদাগাড়ীর বিভিন্ন এলাকার দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ওই দুটি ইউনিয়নের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।
এরপর নেতাকর্মীরা গোদাগাড়ীর মাটিকাটা ইউনিয়নের জন্য বিএনপির প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওই ইউনিয়নের জন্য উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাজমিলুর রহমান শেলির নাম প্রস্তাব করেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে এই ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সদস্য আলী আযম তৌহিদকে প্রার্থী করার দাবি করেন।
কিন্তু ইসহাক আলী বিশ্বাস তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফাও ইসহাক আলী বিশ্বাসের পক্ষে অবস্থান নেন। এর ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এক পর্যায়ে তাদের দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এরপর সেখান থেকে বাসায় ফিরেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসহাক আলী বিশ্বাস তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।
এ বিষয়ে ইসহাক আলী বিশ্বাস বলেন, ‘রাতে তেমন কোনো ঘটনাও ঘটে নি। এমনিতেই উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দলকে সময় দিতে পারছি কম। এ কারণেই এই পদত্যাগ।’
এমই





