মন্ত্রীর বাড়ির সামনে লাশ ফেলার জন্যই নার্সদের দিয়ে বিক্ষোভ করানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেছেন, “নার্সরা কেন আমার বাড়ির সামনে যাবে? এটা তো আমার ব্যক্তিগত বাড়ি। কোনো আন্দোলন দরকার হলে সেটা সরকারি বাসভবনের সামনে যেতে পারতেন।

“আমি জেনেছি, ওখানে নার্সদের নামে ভাড়াটিয়া নার্স ছিল অর্ধেকের বেশি। আসলে তারা হেফাজতে ইসলামের মতো করতে চেয়েছিলেন। কোনোমতে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে একটা লাশ ফেলতে পারলে সেটা নিয়ে সরকার উৎখাতের আন্দোলনে নামতে পারবেন। এই আন্দোলনের নামে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে তারা লাশ চেয়েছিলেন।”

গত বুধবার মন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাড়ির সামনে বেকার নার্সদের বিক্ষোভ নিয়ে সোমবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন নাসিম।

তিনি বলেন, “তারা (ষড়যন্ত্রকারীরা) নার্সদের বলেছিল, এগিয়ে যাও আমরা আছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি। শেখ হাসিনা সরকারকে আর কোনোভাবে পতন ঘটানো যাবে না ভেবেই নিরীহ নার্সদের দিয়ে আন্দোলন করিয়েছে।

“আপনারা জানেন, ঠিক হেফাজতে ইসলামের সময়ের মতো প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে। ওই দিন নাকি ৪/৫টা নার্স মারা গেছে। এক গর্ভবতী মহিলা নাকি গর্ভপাত হয়েছে। পরে দেখা গেছে, কেউ মারা যায়নি; এমনকি ওই মহিলা নিজেই বলেছেন, আমি তো প্রেগনেন্টই হইনি, গর্ভপাত হবে কীভাবে?”

“ড্যাবের একজন নেতা, এনজিওকর্মী ও বিদেশি একটি গবেষণা সংস্থার একজন কর্মকর্তা ধানমন্ডির একটি বাসায় বৈঠক করেছিল। অর্থের বিনিময়ে আন্দোলন করানো হয়েছিল।”

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসিম বঙ্গবন্ধু সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বাবা এম মনসুর আলীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভের ঘটনাটির সঙ্গেও এবারেরটির তুলনা করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,“১৯৭৪ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনসুর আলীর বাসায় যেমন জাসদ নামে একটি দল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, তেমনি তারা সরকার উৎখাতের জন্য একটা পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্ল্যান আমি সফল করতে দিইনি।”

ওই নার্সরা নিজেরাই এখন বিপাকে পড়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন দেখি এই নার্সরা আমার কাছে এসে বলছে, আমরা তো পরীক্ষা দিতে পারি নাই, আমাদের পরীক্ষা নেন। বাস্তবে তাদের আমও গেল ছালাও গেল।”

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদ আয়োজিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন নয় বাস্তবতা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় নাসিম টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে গত মেয়াদে তার দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরে বলেন, মোবাইল ফোনের ব্যবহারের মধ্য দিয়েই ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা শুরু।

“১৯৯৬ সালে আমি যখন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ছিলাম, তখন আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি অনুযায়ী ৩টা লাইসেন্স দেওয়া যেত, মোরশেদ খানের শুধু লাইসেন্স ছিল। আর কাউকে লাইসেন্স দেওয়া যেন না যায়, তাই মোরশেদ খান মামলা করে রেখেছিলেন।”

“তখন ইউনূস সাহেব গ্রামীণফোনের চেয়ারম্যান ছিলেন। অনেকবার আমার কাছে এসেছিলেন। উনি (ইউনূস) ছিলেন ৪ নম্বর আবেদনকারী। উনার একটা অভ্যাস ছিল, উনি মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের দিয়ে চিঠি পাঠাতেন। আমাকে একদিন প্রধানমন্ত্রী বললেন, নাসিম ভাই আপনি ইউনুস সাহেবকে লাইসেন্স দিয়ে দেন, জ্বালিয়ে মারছেন। আমি উনাকে গ্রামীণফোনের লাইসেন্স দিলাম। সেই লাইসেন্সের বদলে উনি নোবেল প্রাইজ পেয়ে গেলেন।”

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দাবি করেছেন, তার মোবাইল নেই।

“শুনেছি, তিনি ল্যান্ডফোনে কথা বলেন। তাহলে তিনি তো এনালগ সিস্টেমেই রয়ে গেছেন। এখন তিনি যদি নতুন করে সিম কেনেন, তাহলে তাকে ভ্যাট-ট্যাক্স ও বায়োমেট্রিকে পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করে কিনতে হবে।”

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের কারণে অপরাধ কমে যাবে বলে মনে করেন তারানা।

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সেন্ট্রাল সিকিউরিটি ইউনিট প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা আইএসপির কাছ থেকে গ্রাহক পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করছি। প্রতি সপ্তাহে সেই তথ্য আপডেট করছি। মাইক্রোসফটের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে এবং গুগলের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। কোনো সাইবার এ্যাটাকের আশঙ্কা থাকলে তারা আমাদের জানবে বলে আশস্ত করেছে।”

আলোচনা সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, “ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট করা হচ্ছে।

“২ লাখ ৫০ হাজার নারীকে আমরা আইসিটি প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আইসিটি ডিভিশন থেকে ৪৫ লাখ মানুষ ২০০ ধরনের সেবা গ্রহণ করছে। ২ লাখ তরুণকে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ২০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার, বেসিস সভাপতি শামীম আহসান।

ইআর/এআই