জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেছেন, যে নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীর তালিকা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বসে তৈরি করা হয়, সেই নির্বাচন সুষ্ঠ হতে পারে না।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভি আইপি লাউঞ্জে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মাহমুদুর রহমান মান্না শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
যে কোন মূল্যে সিটি নির্বাচনে জয়ী হতে হবে মন্ত্রীদের এমন বক্তব্য রব বলেন, দেশের সরকারি দলীয় মন্ত্রীরা যদি নির্বাচনের আগে এমন কথা বলে তাহলে আমরা কি ভাবে বিশ্বাস করবো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
রাজনীতি করতে হলে জীবন দিতে হবে বলে মন্তব্য করে আ স ম আব্দুর রব বলেন, রাজনীতির এখন মৃত্যু নির্ভর হয়ে পড়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রব বলেন, সরকার বর্তমানের রাজনৈতি সংকটকে গুম, খুন, হত্যা, ক্রসফায়ার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। অন্য দিকে ২০ দলীয় জোট হরতাল অবরোধ দিয়ে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে আন্দোলন করতে চাচ্ছে। ক্রসফায়ার দিয়ে সরকার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হত্যা করছে, আর পেট্রোল বোমায় মারা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এসব বন্ধ করতে দুই দলের প্রতি আহ্বান জানানও তিনি ।
এই সরকারকে অবৈধ সরকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বলেছিলো ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ছিলো সংবিধান রক্ষার নির্বাচন। কিছু দিন পর তিনি বলেছিলেন নির্বাচন দিবেন কিন্তু তিনি তার কথা রাখেন নি।
আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্যে করে রব বলেন, রাজাকার যেমন কোন দিন মুক্তিযোদ্ধা হতে পারবে না, তেমনি আওয়ামী লীগ কখনো গণতান্ত্রীক হতে পারবে না। সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললেই তিনি রাজাকার, রাষ্ট্রদ্রোহী, স্বাধীনতা বিরোধী, আর সরকারের সাথে থাকলেই সব ঠিক। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রীক বলে আমি মনে করি না।
নাগরিকে ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, মান্নাকে গ্রেফতার করার একটি মাত্র কারণ তিনি সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন, অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি।
আলোচনা অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক, আসিফ নজরুল বলেন, মান্না বিকল্পধারা রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সুস্থ রাজনৈতিক ধারাকে বাধা গ্রস্থ করার জন্যই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে তাকে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য ফজলুল হক এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু বকর সিদ্দিক, জে এস ডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর মালেক রতন প্রমুখ।
এমএ/এসএইচ





