সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের কোন অবস্থাই এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সকল প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেয়ার পরিবর্তে সরকার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিনই বিরোধী পক্ষের প্রার্থী কিংবা তাদের সমর্থকদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে। গ্রেফতার কিংবা হয়রানির কারনে অনেক প্রার্থী মাঠেই নামতে পারছেন না। নির্বাচনে সবক্ষেত্রে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলরদের উপর সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা একের পর এক হামলা, নির্যাতন চালাচ্ছে।

একদিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার পরিবর্তে বিরোধী পক্ষকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার অপচেষ্ঠা নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র মহানগরবাসীর সামনে উন্মোচিত করেছে। কাউন্সিলররা যাতে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে না পারেন এজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে একের পর এক মিথ্যা ও সাজানো মামলা দেয়া হচ্ছে।

পুরানো মামলাগুলোতে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে। এছাড়াও সরকারদলীয় কর্মীরা প্রতিদিনই প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের বাসায় ও নির্বাচনী অফিসে ও প্রচারগাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে, ভাংচুর করা হচ্ছে প্রচার মাইক, ছিড়ে ফেলা হচ্ছে ব্যানার-পোষ্টার।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে সরকার সমর্থকসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উন্মোত্ত আচরণ ততই বাড়ছে। সিটি কর্পোরেশন উত্তরের মিরপুর এলাকায় ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী এডভোকেট এনায়েতুর রহমানকে গ্রেফতার তৎপরতা অব্যহত রেখেছে পুলিশ।

তাকে আটক করতে তার ছোট ভাই আওলাদ হোসেনকে গ্রেফতার করে নির্মম নির্যাতন করেছে মিরপুর থানা পুলিশ। এছাড়া বাইতুর রহিম মসজিদ থেকে মারুফ নামে এক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ভোটার স্লিপ বিতরণকালে মধ্য মনিপুর এলাকা থেকে তার সমর্থনে কাঁটাচামুচ প্রতিকের ১৩ জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে, তাকে গ্রেফতার করতে শুক্রবার তার বাড়িতে দু’দফা তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকে তার দুই ভায়রা ভাইসহ নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার মামলা না থাকলেও শুধুমাত্র এডভোকেট এনায়েতুর রহমানের আত্মীয় হওয়ার কারনে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এ নিয়ে ঐ এলাকায় তার ২১ জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হলো। এদিকে, বিকাল ৫টায় দক্ষিণের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আঞ্জুমান আরা বেগম রবের কাঁটাচামচ

মার্কার গণসংযোগে হামলা ও গুলি চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় সাধারন জনতা তাদের প্রতিরোধ করলে তারা পিছু হটে। পরে পুনরায় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আবারো হামলা করে। সেখানে ১০/১২ জন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হয়।

সেখান থেকে হামলাকারীদের বাধা না দিয়ে পুলিশ উল্টো আঞ্জুমান আরা বেগম রবের ১০ জন কর্মীকে গ্রেফতার করে। এছাড়া সন্ধ্যার সময় পুরানা পল্টন থেকে পুলিশ আরো একজনকে গ্রেফতার করেছে। দক্ষিণের সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ২, ৩ ও ৪ নং আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী শামিমা আক্তারের প্রচারণার সময় তার লিফলেট কেড়ে নিয়েছে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী ও মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি আনিসুর রহমানের কর্মীরা।

শুক্রবারও তার প্রচার মাইক ভাংচুর করা হয় এবং তার গ্লাস প্রতিকের সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের বেশ কয়েকজনকে আহত করে। দক্ষিণের ৩৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ডা. আতাহার আলীর মিষ্টি কুমড়া প্রতিকের নির্বাচনী মিছিলে হামলা করেছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা।

এ সময় তার প্রচার মাইক ভাংচুর করে তারা। এছাড়া তার নির্বাচনী অফিসে গিয়ে সরকার সমর্থক কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজন তার সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিয়েছে।

উত্তরের ২৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শরিফ মিজানুর রহমানের ট্রাক্টর প্রতিকের পক্ষে শুক্রবার রাতে গণসংযোগের সময় ১১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া কাওরান বাজার এলাকার কাঁচাবাজারে গণসংযোগকালে প্রার্থী শরিফ মিজানুর রহমানকে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের হামলায় ১ জন গুরুতর আহত হয়।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণের নিন্দা জানিয়ে মহানগরী আমীর বলেন, নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় বিরোধী দল মনোনীত প্রার্থীদের সমান সুযোগ দেয়াসহ হয়রানি না করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে বারবার দাবী জানানো হলেও কোন প্রতিকার মেলেনি।

৫ জানুয়ারি একদলীয়, প্রহসনের নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় সরকার আবারো নতুন করে নির্বাচনী নাটক মঞ্চস্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আর সেই প্রহসনের নাটকে অন্যতম কূশীলবের ভূমিকায় নেমেছে স্বয়ং দলদাস নির্বাচন কমিশন। দেশের সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক মহল থেকে নির্বাচনে নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং কারচুপি ঠেকাতে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারসহ মাঠে নামানোর দেয়ার দাবী উঠলেও ৫ জানুয়ারির মতই আরেকটি প্রহসনের নির্বাচয় আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সরকারের ইশারায় সেনাবাহিনী নামাতে অপারগতা জানিয়েছে।

সরকারের দমন ও নিপীড়নের মুখে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সেনা মোতায়নের সার্বজনীন দাবি উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন নিজেদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এসব ষড়যন্ত্র করে সরকার ও তাদের পদলেহীদের শেষ রক্ষা হবে না। আসন্ন সিটি নির্বাচনে জনসমর্থনবিহীন এ সরকারকে জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবে। যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তবে সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে ইনশায়াল্লাহ।

তিনি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে পুলিশ দিয়ে হয়রানি বন্ধ, নির্বাচনে বিরোধী দল মনোনিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচার কাজে ক্ষমতাসীন লোকজনের বাধা, হুমকি-ধমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সুযোগদানের জন্য জোর দাবি জানান।

এসএইচ