বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, “তিন সিটির নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিএনপি মোটেও সন্তুষ্ট নয়। নির্বাচনী পরিবেশ নেই। পুলিশ বাড়াবাড়ি করছে, সরকারি কর্মকর্তারা বাড়াবাড়ি করছে। কমিশন হয়তো চাচ্ছে একটা ভালো নির্বাচন করতে কিন্তু তাঁদের কথা কেউ শুনছে বলে আমরা মনে করি না।” 

আজ (রোববার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এইসব কথা বলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। বিএনপির দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনের সঙ্গে ছিলেন- বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কাইসার কামাল। 

সিইসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এবং শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এসময় উপস্থিত ছিলেন। আগামীকাল (৩০ জুলাই) রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর একদিন আগে বিএনপির দুই নেতা সিইসির সঙ্গে দেখা করলেন।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৫-৯৬ সালে আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশি তাকে দিব নামে একটি স্লোগান দিতেন। Top of Form আমরা আজকে প্রধানমন্ত্রীর সেই স্লোগানের বাস্তবায়ন চাই।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ওই স্লোগানটি আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। আমরা ওই স্লোগানের বাস্তবায়ন চাই। মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন সেটা আপনারা নিশ্চিত করবেন।”

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারেরর কাছে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের একটি তালিকা দিয়েছি। খুলনা ও গাজীপুরে একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। আদালত ও ইসির নির্দেশনা অমান্য করে সিটিগুলোতে গ্রেফতার, মামলা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া যাতে কাউকে গ্রেফতার করা না হয় সে ব্যাপারে আমরা ইসির বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে দাবি জানিয়েছি। পোলিং এজেন্টদের গ্রেফাতার না করতেও অনুরোধ জানিয়েছি।”

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আরও বলেন, “ভোটগ্রহণ এবং ভোট গণনা করা পর্যন্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশ, র‌্যাব, সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রিসাইডিং অফিসার’সহ কেউ যদি অনিয়ম করে কিংবা অন্যায় করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেই ব্যাপারেও আমরা দাবি জানিয়েছি।”

নির্বাচনের দিন গণমাধ্যমকে ভোটকেন্দ্রের সংবাদ প্রকাশে বাধা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মাহবুব উদ্দিন বলেন, “সংবাদকর্মীদের সঠিকভাবে সংবাদ প্রচার করতে দেন। নতুবা মানুষ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা মানুষ কখনোই ভালোভাবে নেবে না।”

তিনি আরও বলেন, “এই তিন সিটি নির্বাচন আগামী জাতীয় নির্বাচন একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। আপনাদের উপরে জনগণের আস্থা থাকবে কি থাকবে না সে ব্যাপারে মানুষ সিদ্ধান্ত নিবে। গত দুই নির্বাচন বিতর্কিত হয়ে আছে। আগামী তিন সিটির নির্বাচনও যদি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে না পারেন তাহলে আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হুমকির মুখে পড়বে।”

এমবি