বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, শিক্ষা জাতির মৌলিক অধিকার। কিনতু সরকারের নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে  শিক্ষার অধিকারকে সংকুচিত করে বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে।

সোমবার ( ২২ মে ) নারায়নগঞ্জের এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবির নারায়নগঞ্জ মহানগরী শাখা আয়োজিত  এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শিবির সভাপতি বলেন, শিক্ষা একটি জাতির অগ্রগতির হাতিয়ার। পৃথিবীর প্রায় সব দেশ এ খাতটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে তার উল্টো চিত্র দেখছে জনগণ। সরকারের একের পর এক শিক্ষা বিরোধী কার্যক্রমে শিক্ষাব্যবস্থা আজ ধ্বংসের সম্মুক্ষীন হয়ে পড়েছে। গত অর্থ বছরে আমদানি করা প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শিক্ষার পাঠ্য বাইয়ের ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অযৌক্তিক অতিরিক্ত কর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মেধার সর্বোচ্চ স্বাক্ষর রাখলেও মাদ্রাসা ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে।  কয়েক দিন পর পর বাড়ানো হচ্ছে শিক্ষা ব্যয়। উচ্চ শিক্ষাকে বাণিজ্যকরণ করা হয়েছে। এতে করে দেশের মুষ্ঠিমেয় ধনী শ্রেণীর কোন সমস্যা না হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য শিক্ষা লাভ করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভূলে ভরা পাঠ্যপুস্তক, সেকুলার পাঠ্যসূচি ও অস্বচ্ছ মেধা মূল্যায়ন পদ্ধতি শিক্ষাব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিচ্ছে। অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক সন্ত্রাস, নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের পুলিশের হয়রানী, অস্ত্রবাজী, এক শ্রেণীর শিক্ষকদের দলবাজিসহ নানা অপকর্মে ক্যাম্পাসগুলোর শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে। সর্বোপরি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের ধারপ্রান্তে নিয়ে গেছে সরকার। সুকৌশলে বৈষম্য সৃষ্টি করে জনগণকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, একটি জাতিকে সার্বিক ভাবে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়াই যথেষ্ট। আর বাংলাদেশে তা’ই হতে চলেছে। কিন্তু আমরা এ ধ্বংস লীলা দেখেও নিরব থাকতে পারি না। আমরা আসন্ন বাজেটে শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্ধের দাবী জানাচ্ছি। আবাসিক সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে আরও হল নির্মান ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য দূর, কওমী সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন, শিক্ষা ব্যয় কমানো ও কঠোর হাতে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করতে হবে। সেইসাথে সন্ত্রাস, মাদক ও অশ্লীলতা মুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি মেধাবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু সাফল্য অর্জনই শেষ নয় বরং তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতেও প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এ সাফল্যকে ধরে রাখতে এবং তা কাজে লাগিয়ে নিজেদের সার্বিক ভাবে যোগ্যতা সম্পন্ন করে গড়ে তুলতে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। ছাত্রসমাজের মেধাবিকাশে ছাত্রশিবির গঠনমূলক ভূমিকা রাখে

এমই