ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে মনোনয়নপত্র বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। এদিকে মিন্টুর প্রার্থীতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ঢাকার উত্তরে বিকল্পধারার মাহী বি চৌধুরীকে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
আগামী ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় সিটি নির্বাচনে ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে মনোয়নপত্র দাখিল করেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু। কিন্তু তার মনোনয়নপত্রের সমর্থক আব্দুর রাজ্জাক উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার না হওয়ায় রির্টার্নিং অফিসার তা বাতিল করে দেয়। এই বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করেন মিন্টু।
শনিবার ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার জিল্লার রহমান আপিল খারিজ করে দিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিলে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। বিভাগীয় কমিশনারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রবিবার রিট আবেদন দায়ের করেন মিন্টু।
আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন, মিন্টু একজন যোগ্য প্রার্থী, তার কোন অযোগ্যতা নেই। তার মনোনয়নপত্রে সমর্থক হিসাবে যাকে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি ভোটার নন এটা স্থানীয় সিটি করপোরেশন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী গুরুতর কোন ভুল নয়। কারণ ওই বিধিমালায় বলা আছে মনোনয়নপত্রে ছোটখাট ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীদের দিবেন। কিন্তু তা না দিয়ে মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্ত অবৈধ।
তিনি বলেন, আমাদের এই তুচ্ছ ভুলের বিষয়টি সংশোধনের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি কোন সুযোগ দেননি। এছাড়া এই তুচ্ছ ভুলটিকে রিটার্নিং অফিসার কেন গুরুতর হিসেবে দেখলেন তার কোন ব্যাখ্যাও দেননি। ফলে এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। শুনানিতে তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব ও ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান।
জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, একজন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের যিনি সমর্থক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন তিনি সিটি করপোরেশনের ভোটার নন। আইনানুযায়ী যিনি ভোটার নন তিনি মনোনয়পত্রের সমর্থক হতে পারবেন না। রিট আবেদনকারী এই ভুলকে তুচ্ছ হিসেবে দাবি করছেন। কিন্তু আমার বক্তব্য হলো আইনানুযায়ী এটি গুরুতর ভুল। প্রার্থীর নাম বা ঠিকানায় কোন ভুল থাকলে তা তুচ্ছ হিসেবে বিবেচনা করা যেত। ফলে এই রিট খারিজ করে দিয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখাই উত্তম হবে।
জেআই





