জাপান সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিজের নীতি অনুসরণ না করে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ  করার আহবান জানিয়েছেন।
বুধবার সকালে জাপানের জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে দেশটির স্থানীয় মিডিয়ার সঙ্গে আলোচনাকালে সাংবাদিকদের সাথে তিনি একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, নীতিগত ভিন্নতা থাকা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু কোন সমস্যা তৈরি হলে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করা যেতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের সাথে আমরা সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারবো। মোদির নিজস্ব ধ্যানধারণা রয়েছে। এখন তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আমি আশা করি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনিও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে নিজস্ব ভুমিকা পালন করবেন।
নরেন্দ্র মোদী ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কোন বাধা তৈরি হবে কিনা- জাপানের এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মে চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই সফরের কারণেই তিনি ভারতের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি।
গত ২৬ মে ভারতের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় ভবনে দেশটির ১৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপি থেকে নির্বাচিত নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি। দেশ বিদেশী ৪ হাজারেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব যোগ দেন এই শপথ অনুষ্ঠানে।
এমনকি ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে এই প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত দেশসমূহের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট রাজা পাকসেসহ শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন নেপাল ও ভূটানসহ সার্কের সদস্য রাষ্ট্রের প্রধানরা। এমনকি সার্কের মিলনমেলা হিসেবেও এই শপথ অনুষ্ঠানকে আখ্যায়িত করেন কেউ কেউ।
তবে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপানের সফরের কারণে তার পরিবর্তে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।
এদিকে শুরু থেকেই নানা মহলে আলোচনায় ছিল ভারতের কংগ্রেস পার্টির সাথে অতিরিক্ত দহরম মহরম থাকা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে খুব একটা ভালো চোখে দেখে না ভারতীয় বিজেপি। আর সেই বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ দেশটির সাথে বিদ্যমান কুটনৈতিক সম্পর্ক কতটা বজায় রাখতে পারবে?
এমনই পটভূমিতে জাপান সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন মন্তব্য করলেন। মোদিকে নিজের নীতির পরিবর্তে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলার হাসিনার এই আহ্বানে কী প্রতিক্রিয়া দেখান মোদি সেটিই এখন দেখার বিষয়।
[b]ঢাকা, ২৮ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এন এস // কেবি[/b]