বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবার জন্মগ্রহণ কারী কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের অহংকার। দারিদ্রতার কারনে জীবিকার কঠোর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করে বাঙালির জন্যে চিরস্থায়ী গান ও সাহিত্য রচনা করে গেছেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশের তিনি জাতীয় কবি, যদিও বিভাগপূর্ব বাংলার বাঙালির কাছে তিনি ‘জাতীয়’ কবিই ছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মজয়ন্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ন্যাপ নগর সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলু'র সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহন করেন এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব মোঃ নুরুল আমান চৌধুরী, সম্পাদক মোঃ কামাল ভুইয়া, মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, নগর যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, বাহাদুর শামিম আহমেদ পিন্টু, আবদুল্লাহ আল কাউছারী, জিল্লুর রহমান পলাশ, সোলায়মান সোহেল প্রমুখ।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, তিনি বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদের মানবতাবিরোধী তৎপরতার কালে কবিতার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন কাজী নজরুল। তিনি স্পষ্টত জানিয়ে দিলেন উৎপীড়িতের কান্না না থামা পর্যন্ত, অত্যাচারী স্তব্ধ না হওয়া অবধি তিনি শান্ত হবেন না।

তিনি বলেছেন, কাজী নজরুলের উচ্চারণ ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলো অত্যাচারী শাসকশ্রেণির, স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও সাহসী করে তুলেছিলো সাধারণ মানুষকে। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে এভাবেই নজরুল হয়ে উঠলেন বাংলার মানুষর প্রাণের কবি।

গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, জাতীয় জাগরণের রূপকার নজরুল বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমোজ্জ্বল প্রতিভা। শিল্পী জীবনের সীমিত পরিসরে নজরুলের বহুমুখী প্রতিভার মূল্যায়ন এখনো সময়সাপেক্ষ।

সভাপতির বক্তব্যে মোঃ শহীদুননবী ডাবলু বলেছেন, বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও কাজী নজরুল ছিলেন একাধারে সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্রময় অসংখ্য রাগ-রাগিণী সৃষ্টি করে বাংলা সংগীত জগৎকে সমৃদ্ধ করেছেন, মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।