বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট ডেকেছে। এর ফলে সড়কে কোনো গণপরিবহন না থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতে দুর্ভোগে নগরবাসী। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান।
রাস্তায় শত শত মানুষ। পরিবহন নেই। জনদুর্ভোগ দেখারও যেনো কেউ নেই। পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যে সড়কে গাড়ি বের করলেই চালকদের মুখে পোড়া মবিন মেখে দিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। গণ-পরিবহন চালক’সহ মোটরসাইকেল চালকরাও রেহাই পাচ্ছেন শ্রমিকদের পোড়া মবিল থেকে। এমনকি শ্রমিকদের এমন নৈরাজ্যের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সাংবাদিকরাও। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্মস্থলগামী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ পরিবহন না পেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটেই চলতে গন্তব্যস্থলে রওনা দেন। কেউ কেউ ভ্যান রিকশা করে কর্মস্থলে ছুটছেন। বেশি ভাড়া দিয়ে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইডশেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও-উবারের মোটরসাইকেলে করে গন্তবব্যস্থলে যাচ্ছেন অনেকে। এরই মধ্যে পরিবহন শ্রমিকদের পোড়া মবিলের শিকার হচ্ছেন এসব গাড়ির চালকরা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান।
মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সংগঠনের ডাকে ধর্মঘটনিয়ে আজ (২৮ অক্টোবর) রোববার বাংলাদেশের দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবুল মকসুদ ও সুলতানা কামাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, “কয়েকদিন পর পর এভাবে ধর্মঘটের ডাক নেতাদের দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত রূপ। তাদের দাবি তো সরকারের কাছে। সেক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে বসে এই ব্যাপারে তারা আলোচনা করতে পারতো। তা না করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলছে।”
তিনি বলেন, “সবচেয়ে সাংঘাতিক ব্যাপার হলো এই সংগঠনের সভাপতি আবার সরকারেরই লোক। নৌমন্ত্রী শাজাহান খান নিজেকে শ্রমিক নেতা হিসেবেও দাবি করেন। তবে কি তার কাজ সরকারের মধ্যে থেকেই সরকারকে চাপে রাখা?”
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, “উনি যদি পরিবহন শ্রমিক নেতাদের দাবির সঙ্গে একমত না হন, তাহলে সংগঠন থেকে পদত্যাগ করবেন। আর যদি তিনি মনে করেন পরিবহন শ্রমিকদের দাবি সংগত কিন্তু সরকার মানছে না, সেক্ষেত্রে তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতে পারেন। যেকোনো একটা থেকে তাকে পদত্যাগ করতেই হবে। না হলে এই দ্বিচারিতার বিষয়টি অনেক বেশি তামাশার মনে হচ্ছে।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, “পরিবহন শ্রমিকরা আমাদের সমাজেরই অংশ। এখানে লক্ষণীয় বিষয়টি হচ্ছে- যে যাকে যেভাবে পারছে ভোগান্তিতে ফেলছে। দেশের সরকার, পেশাজীবী, সেবক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাই একই পথে হাঁটছে।”
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন মন্ত্রী কি করে একইসঙ্গে একটি শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্বে থাকেন, তা বোধগম্য নয় বলে জানান তিনি।
সুলতানা কামাল বলেন, “আসলে ভেবে কি হবে, আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরের অবস্থাই এমন। সেখানে এসব লোকেরাই সব ক্ষমতার কলকাঠি নাড়ছে।”
গতকাল (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। সেখান থেকে সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে আজ থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় তারা। দাবি আদায় না হলে ৩০ অক্টোবর থেকে লাগাতার ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
উল্লেখ্য, বেপরোয়া মোটরযান চালানোর কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজার বিধান রেখে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’বিল গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয়।
এমবি





