উগ্রবাদী জঙ্গীগোষ্ঠী নিয়ে সরকারের রহস্যজনক আচরণে মানুষের মনে যে তীব্র সন্দেহ এবং প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে সেটিকে ঢেকে দিতেই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মুদ্রা পাচারের মিথ্যা মামলায় জজ আদালত কর্তৃক খালাস পাওয়া পরও সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

আজ বিএনপির কেন্দ্রিয় কার‌্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, জঙ্গীবাদ টিকে থাকলে বিরোধী দলের ওপর ক্রমাগত দায় চাপিয়ে যেতে পারলে এই ভোটারবিহীন অবৈধ সরকারের জন্য লাভজনক। তাই জঙ্গী দমনে সরকারের কোন কার্যকর পদক্ষেপ তো ছিলই না এবং তারা নিজেদের ব্যর্থতাও কখনো স্বীকার করেনি। তাদের এই নির্লিপ্ততায় উগ্রবাদীরা আরো বলশালী হয়েছে এবং শিকড় আরো গভীরে গেছে।

কিন্তু সরকারের সকল অপকৌশল অকার্যকর হয়ে জঙ্গী পরিস্থিতির দরুন দেশে-বিদেশে এই বেআইনী সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ আরো তীব্র হয়ে উঠেছে।


রিজভী আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্রকে পরকালে পাঠিয়ে একদলীয় দু:শাসন বজায় রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে সরকার নিজেদের লোকজন বসিয়ে গায়ের জোরে দেশের সমগ্র জনগণকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। জনগণের ওপর সরকারের কোন প্রভাব নেই বলেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন আওয়ামী ক্যাডারদের দ্বারা পরিচালিত। কারন এদেশে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের হয় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, হাজার হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী কারাগারে দু:সহ জীবনযাপন করতে হয়। আর প্রকাশ্য দিবালোকে যারা ক্রসফায়ারে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে, উপজেলা চেয়ারম্যান, কাউন্সিলরসহ জনপ্রতিনিধিদেরকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করার পরেও শুধুমাত্র শাসকদলের ক্যাডার হওয়ার কারনে নি:শর্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমা পেয়ে যায়। সুতরাং কারা প্রভাব বিস্তার করতে পারে সেটি এখন দেশ-বিদেশের সকলেই জেনে গেছে।

এ সরকার ভারতের উপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের প্রতি কারো কোন সমর্থন নেই। দেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন এই সরকার সারাবিশ্বের সমর্থন থেকেও বঞ্চিত। শুধুমাত্র জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে গিয়ে সরকার যে বর্বর নীতির ওপর দেশ চালাচ্ছেন তাতে এই সরকার একেবারেই একা হয়ে গেছে। এই একাকীত্বে ভারতের সহায়তা ছাড়া এই সরকারের আর কোন অবলম্বন নেই। পরনির্ভরশীল এই সরকার দেশের স্থিতিশীলতা আসুক সেটি কখনোই চাইবে না। কারন সরকার ভারতের প্রতি গদগদ আত্মনিবেদন করতে গিয়ে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়েছে।


এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদ, এ্যাডভোকেট সালাউল্লাহ মিয়াসহ প্রমুখ।

ইআর