বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পবিত্র সংবিধানকে আওয়ামী লীগের দলীয় ঘোষনাপত্র ও গঠনতন্ত্রে পরিণত করেছে। তাই বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের ক্ষমতারোহণের জন্য নয়, বরং আওয়ামী একনায়কতান্ত্রিকতা ও স্বৈরতান্ত্রিকতা থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্যই জনগণের এই আন্দোলন।
রবিবার বিকালে এক বিবৃতিতে তিনি ২০ দলীয় জোটের মূখপাত্র হিসেবে এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীনরা ইতোপূর্বে চতুর্থ সংশোধনীর মাধমে বাকশাল কায়েম করেও তারা একই কর্ম করেছিল। দুটো সংশোধনীর মর্মার্থ একই, অর্থাৎ সকল বিরোধী দল নিশ্চিহ্ন করে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ একদলীয় সরকার ও একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করবে।
তিনি বলেন, এফবিসিসিআই এর দলবাজ সভাপতির কারনে ব্যবসায়ী সমাজের বক্তব্য সরকারের কর্ণকুহরে প্রবেশ করছেনা। সরকার প্রধানের রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের কারনেই চলমান রাজনৈতিক সংকট ও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। অতএব, স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারকে দ্রুত পদত্যাগের পরামর্শ প্রদান করুন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যবস্থাবান্ধব স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং গণহারে পাশ করিয়ে দিয়ে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে নিলামে উঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বেচারা শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের জন্য মায়াকান্না করছেন। ১৯৯৫-৯৬ সালের আওয়ামী নৈরাজ্য ও তান্ডবের কারনে এসএসসি পরীক্ষা তিন মাস পেছাতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালীন বিএনপি সরকার। স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী সরকার ও পরবর্তীকালের তাদের প্রত্যেক শাসনামলেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল। বিগত বিএনপি সরকারের সময়েই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নকলমুক্ত ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আমরা সক্ষম হয়েছিলাম।
দেশের সকল পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজসহ শ্রেণী পেশা নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণকে আহবান জানাই-আপনারা সম্মিলিতভাবে গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অবৈধ সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করুন। তাহলেই দেশের সকল মানুষের অভিপ্রায় অনুযায়ী প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্বশীল জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর হুকুমে সারাদেশে বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ডের মহৌৎসব করছে দলবাজ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা এমন দাবী করে তিনি বলেন, প্রতিবাদী মিছিলে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। খুন, গুম, অপহরণ, হামলা মামলার শিকার হচ্ছে রাজপথের অসীম সাহসী আন্দোলনকারী সাথীরা। গণগ্রেফতারের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত অসংখ্য বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী ও নিরীহ সাধারণ জনগণ।
গতকাল ঢাকার শ্যামলী এলাকায় মিছিল থেকে চার শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তন্মধ্যে শিবির নেতা জসীম উদ্দিন হাওলাদারকে ক্রসফায়ারে হত্যা করে এবং অন্য তিন জন শিবির নেতা সজীব, আবদুল মান্নান ও আবদুল্লাহকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও এখনও স্বীকার করেনি। এছাড়া ঢাকার কলাবাগান থানার পুলিশ শিবির নেতা আবু হাসানকে বাসা থেকে থানায় ডেকে নিয়ে পা’য়ে গুলি করে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট জামায়াত নেতা বেলায়েত হোসেন মজুমদার ও বেলাল হোসেন পন্ডিতকে একই কায়দায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে পা’য়ে গুলি করে। আমরা সরকারের পেটোয়া পুলিশ বাহিনীর এহেন ঘৃন্য হত্যাকান্ড ও বন্দুকবাজীর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই মর্মে হুঁশিয়ার করছি যে, ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে এই সকল হত্যাকান্ডের ও নির্মম বন্দুকবাজীর প্রত্যেকটি ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করা হবে। এছাড়া প্রতিনিয়ত বিএনপি, জামায়াত সহ ২০ দলীয় জোটের অসংখ্য নেতা-কর্মীরা যারা এ জাতীয় হত্যাকান্ডের ও বন্দুকবাজীর শিকার হচ্ছে তার প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার করা হবে।
সালাহ উদ্দীন বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অঘোষিতভাবে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউসহ পৃথিবীর সকল উন্নত রাষ্ট্রসমূহ, জাতিসংঘসহ সকল বিশ্বসংস্থা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ জানানো সত্বেও অবৈধ আওয়ামী সরকারের টনক নড়ছেনা।
আমরা বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের সকল নেতা-কর্মী ও সকল গণতন্ত্রকামী দেশবাসীকে চলমান শান্তিপূর্ণ অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে এই অবৈধ সরকারের পতন নিশ্চিত করার আহবান জানাই। ন্যায়সঙ্গত গণআন্দেলনের বিজয় অনিবার্য ইনশাআল্লাহ।
এমএইচ





