সিলেটে দুই ছাত্রলীগ নেতার ওপর হামলা হয়। কথিত অভিযোগ শিবিরের ওপর। আর সেই থেকে শিবির অপবাদ দিয়ে দলের বিপরীত গ্রুপ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো শুরু করেছে ছাত্রলীগ।
তবে এসব অপবাদের প্রধান টার্গেট নিজেদের দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বি গ্রুপের কর্মীরা হলেও মাঝে মধ্যে রোষানলে পড়ে যায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঘেটে কে কোথায় লাইক দিয়েছে, কমেন্টস করেছে তার ভিত্তিতে এসব নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে জানা যায়।
প্রতিপক্ষ বা তার কর্মীরা জামায়াত, শিবির, বিএনপি বা হেফাজতে ইসলামের কোন ফেসবুক গ্রুপ বা অন্য কোন সামাজিক মাধ্যমে লাইক-কমেন্টস করেছে কিনা বা এ জাতীয় কোন ব্যাক্তি তাদের ফ্রেন্ডলিস্টে আছে কিনা এমন সব তথ্যের উপর ভিত্তি করে পূর্বেও বিভিন্ন সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থী বা নিজ দলের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মারধর করেছে ছাত্র সংগঠনটির নেতারা।
গত কয়েক দিনে বিভিন্ন হল থেকে যাদেরকে নির্যাতন করে বের করা হয়েছে তাদেরও প্রায় সকলকেই বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে লাইক পোস্ট দেয়াকে কারণ হিসেবে সামনে এনে নির্যাতন করা হয়েছে বলে হলগুলোর সূত্র জানাচ্ছে।
গত ৮ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়টির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমানুল্লাহকে ছাত্র শিবির অপবাদ দিয়ে বেধড়ক মারধোর করে হলটির সেক্রেটারি গ্রুপের কয়েকজন।
তার ফেসবুক চেক করে এক শিবির নেতার ফেসবুক পেজে লাইক দেয়ার তথ্য পায় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের কয়েকজন। তার ভিত্তিতে পরে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে পায়ের হাটুর মালা ভেঙে দেয়া হয়েছে। আমানুল্লাহর পিতা একজন সরকারি কর্মকর্তা। তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়ভাবে আওমীলীগ পন্থি বলেও জানা গেছে।
১৩ই আগস্ট একই হলের মনিরুল ইসলাম নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই বছর আগের একটি পোস্ট নিয়ে শিবির অপবাদ দেয়া হয়। তাকেও ওই রাতে মেরে গুরুতর যখম করা হয়। পরে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের হস্তক্ষেপে তাকে আবার হলে যেতে দিতে বাধ্য হয় মারধোর করা ওইসব কর্মীরা।
মনিরুলের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার শারদা ইউনিয়নে। সেখানকার চেয়ারম্যান ও চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান মধুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মনিরুলের বাড়ির সকলেই তার দলের (আওয়ামী লীগের) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়টির বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির এক সদস্য হারুনুর রশিদ হিমেল গত ১৩ তারিখে এবং ওই একই হলের আরো এক শিক্ষার্থী এবং ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাও একই অভিযোগে ১০ তারিখে নির্যাতনের শিকার হন।
নির্যাতীতদের মধ্যে একটি বড় অংশেরই রাজনীতির সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু হলে থাকার জন্য বিভিন্ন নেতার নামে স্লোগান দিতে হয় তাদেরকে।
ছাত্রলীগ নেতাদের নিজ দলীয় প্রতিপক্ষের নামে স্লোগান দেয়ার কারণেও এরা টার্গেটের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। এক সপ্তাহে প্রায় শতাধীক শিক্ষার্থী হলছাড়া হয়েছে, অন্তত ৩৫ জনকে পিটিয়ে যখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থী নির্যাতনের এসব ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, ‘স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি যেখানেই থাক না কেন খুজে করা হবে। এবং শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
তবে নিজের দলের ও সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাকে যদি কেউ নিজ দলের প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট সিলেটের জালালাবাদে দুর্বৃত্তদের হামলায় ছাত্রলীগের দুই কর্মী মারাত্মক আহত হন। এ ঘটনার জন্য শিবিরকে দায়ী করেছে ছাত্রলীগ। ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সমাবেশে শিবিরের বিরুদ্ধে ‘অ্যাটাকে’ যেতে নির্দেশ দেন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। তাদের নির্দেশনার পর থেকেই বিভিন্ন হল থেকে শিবির ধরার নামে এসব অভিযানে নামে হলের নেতারা।
জেড





