জাসদ’র(একাংশ) কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দিন খাঁন বাদল এমপি বলেছেন, আমরা সরকারি দলে আছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাদের পারমিশন দিয়েছেন যাতে আমরা বিরোধী দলের মতো কথা বলি। তারপরও অনেক সত্য কথা বলতে পারি না। আজও অনেক সত্য বলতে পারব না। তবে ইতিপূর্বে সংসদে যেসব কথা বলেছি সেসব কথাই বলব। তাহলে সরকার আমাকে ধরতে পারবে না।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে যাত্রী অধিকার দিবস ঘোষণা উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এইসব কথা বলেন।

এমপি বাদল বলেন, সংসদে ৭০ ভাগ কোটিপতি এমপি আছে। অথচ ৩০ বছর আগে তারা বাসে চলাচল করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি সরকারকে বলেছি, আমাদের ফুটপাত দখলদারমুক্ত করুন। যাতে মানুষ হেঁটে চলাচল করতে পারে। এতে গণপরিবহণের ওপর চাপ কমবে। হাসপাতালে ডায়াবেটিস রোগী কমে যাবে। কিন্তু ফুটপাত ঠিক করা হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম শহরকে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য উল্লেখ করে বাদল বলেন, সেখানে ফ্লাইওভারের উপরে পানি, নিচেও পানি।

এমপি বাদল বলেন, যারা আইন তৈরি করেন তারাই আইন লঙ্ঘন করেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাও আইন লঙ্ঘন করেন। নতুন আইন হলে পুলিশ খুশি হয়। কারণ ওই আইনে ২জন অপরাধী আটক হয়। আর নিরপরাধী আটক হয় ৯৮ জন। আর ৯৮ জন নিরপরাধীকে ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে টাকা আদায় করে পুলিশ।

এসময় রাজধানীতে জনদুর্ভোগ কমাতে প্রধানমন্ত্রীকে হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরামর্শ দেন মইনউদ্দিন খাঁন বাদল।

তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে বাজারে যান। তাদের জন্য প্রটেকশনের প্রয়োজন হয় না। অথচ আমাদের দেশে প্রধানমন্ত্রী যখন কোনো রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন তখন আশপাশের অনেক রাস্তা বন্ধ থাকে। তখন মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, রাজধানীতে চলাচলের জন্য আপনি প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করুন। তবু মানুষকে কষ্ট দেবেন না।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও টিআইবি ট্রাস্টির চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, সাংবাদিক আবু সাঈদ খাঁন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ মজুমদার, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

এমবি