১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি ও স্বাধীনতা বিরোধীদের উত্থান আর বাংলাদেশের মাটিতে ঘটবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার শুরু হয়েছে। এদের প্রত্যেকের রায় কার্যকর করা হবে। বিএনপি নেত্রী (খালেদা) পাকিস্তানের দোসর বলে এটা তার সহ্য হচ্ছে না। তাই তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষ নিয়েছেন। এই পরাজিত শক্তির উত্থান আর বাংলার মাটিতে হবে না। বাংলার মানুষ এটা হতে দিবে না।

তিনি বলেন, '৭১ সালে পাকিস্তানিরা যে ভাবে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। ২০১৩ সালের শেষের দিকে সেই ভাবেই গণহত্যা চালিয়েছেন খালেদা ও তার পুত্র। মানুষ, পশু, পাখি, এমন কি গাছ-পালাও তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। তাদের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষ ভুলে যায়নি।

তিনি আরও বলেন, ১৭ ই আগস্টে সারাদেশে বোমা হামলা ও ২১ শে আগস্ট আমার উপর গ্রেনেট হামলা হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের মদদ ছাড়া এত বড় হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে তার ছেলের মাধ্যমে হাওয়া ভবন তৈরি করেছিল। এই হাওয়া ভবনের দ্বারাই বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্র্রে পরিণত করেছিল। দেশকে দূর্নীতির অভ্যয় অরন্যে পরিণত করেছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে সেই বাংলাদেশকে আবার উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে তৈরি করেছি। এটাই খালেদা জিয়ার সহ্য হয় না।

১৫ ই আগস্ট খালেদা জিয়ার জম্মদিন পালনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিকৃতি চরিত্র ও নিম্ম মানসিকতা না হলে ১৫ ই আগস্ট মিথ্যা জম্মদিন পালন করতে পারে না। এতেই প্রমাণিত হয়। তিনি (খালেদা জিয়া) স্বাধীনতা বিরোধী ও খুনিদের সঙ্গে আছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন জিয়াউর রহমান। এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছিল জিয়া। '৭১-এর খুনিদের লালন পালন করছে বিএনপি। তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী,অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

ঢাকা, এমআর, ৩০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম