সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার ও তাজউদ্দীন কন্যা শারমিন আহমেদ বই লিখে ‘বোমা ফাটানোর’ পর এখন নতুন আরেকটি বই-বোমা আতঙ্কে ভুগছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই আতঙ্ক এবার মন্ত্রিসভা ও দলের সভাপতিমণ্ডলী থেকে অপসারিত লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে।
দলের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে লতিফ সিদ্দিকীর বই লেখা ও তা নিয়ে দলের অনেকের ভেতরের উদ্বেগ-আতঙ্কের কথা জানা গেছে। তবে ভেতরে আতঙ্ক কাজ করলেও প্রকাশ্যে দলের অনেক নেতাই বলেছেন, তিনি কী করলেন-না করলেন তা নিয়ে আওয়ামী লীগ ভাবছে না।
সম্প্রতি এক দীর্ঘ আলাপচারিতায় লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, সব কিছুরই জবাব দেবেন তিনি। ‘সেটা কোন পদ্ধতি অনুসরণ করে’ জানতে চাইলে লতিফ সিদ্দিকী তার পূর্বসূরি বাংলাদেশের এ কে খন্দকার ও ভারতের নটবর সিংয়ের পথ অনুসরণ করার কথা জানান।
উল্লেখ্য, ভারতের কংগ্রেস দলের নেতা নটবর সিং বই লিখে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা করেছিলেন। আর এ কে খন্দকার বই লিখে রীতিমতো ঝড় তোলেন দেশে।
আওয়ামী লীগের অনেক নেতার ধারণা, এরই ধারাবাহিকতায় বই প্রকাশ করে বোমা ফাটাতে পারেন ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে সদ্য মন্ত্রিত্ব ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদ থেকে বাদ পড়া আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।
লতিফ সিদ্দিকীর বই লেখার বিষয় কারো কারো মধ্যে খানিকটা চিন্তার কারণ হিসেবেও দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতাও চিন্তিত এ কারণে যে, বই লিখে আবার কখন কাকে আক্রমণ করে বসেন লতিফ সিদ্দিকী! কারণ, দীর্ঘদিন দলে থাকার কারণে রাজনৈতিক সহকর্মীদের এবং দলের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের বড় নেতা ছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ হয়েছে তার। বিভিন্ন সময় দলের হাল ধরেছেন তিনি। তার বিভিন্ন মন্তব্য পত্রপত্রিকায় দেখেছি। এ অবস্থায় আমি মনে করি, লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের বিপক্ষে যাবে এমন কিছু করবেন না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের প্রভাবশালী ও লতিফ সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, লতিফ সিদ্দিকী বই লিখবেন এটা অনেকখানি নিশ্চিত করে বলা যায়। তিনি আলোচনায় থাকতে এবং কিছু সহকর্মী রাজনীতিককে বিতর্কে ফেলতে এ কাজ করবেন। কারণ, সরকার ও দলের অনেকের ওপরই তিনি রুষ্ট।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দল থেকে সর্বস্বান্ত লতিফ সিদ্দিকী এখন ক্ষুব্ধ। এর বহিঃপ্রকাশ বই লিখে ঘটাতে পারেন তিনি। যেমন বই লিখে আলোচনায় এসেছিলেন এ কে খন্দকার ও শারমিন আহমেদ।
লতিফ সিদ্দিকীর লেখালেখি ও সক্রেটিস হওয়ার ইচ্ছাকে অনেকটা ব্যঙ্গ করে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, ‘সক্রেটিসের পরে আবারও সক্রেটিসের আর্বিভাব হলে বাংলাদেশ ও বিশ্ববাসী উপকৃত হবে। আমাদের গভীরভাবে অপেক্ষা করা উচিত যে, সক্রেটিসের মতো একজন আসছেন।’
তিনি বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী কী করল না করল তা নিয়ে আওয়ামী লীগ ভাবছে না।’
জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, লতিফ সিদ্দিকী বই লিখতে পারেন তবে তার লেখা বই জনগণ গ্রহণ করবে না। কারণ তিনি মুসলমানের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফলে জনগণ তার লেখা কিছু গ্রহণ করবে না।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী এখন আমাদের দলের কেউ নন। তিনি একজন সাধারণ নাগরিক। তিনি লেখালেখি করার ইচ্ছা জাগলে লিখবেন। তাতে আমাদের কী।’ সূত্র: কালের কণ্ঠ
জেআই





