সম্প্রচার নীতিমালাকে ‘দলন নীতিমালা’ আখ্যায়িত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, শাসকদের অপকর্ম ও ব্যর্থতার সমালোচনা বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই যে এই কালাকানুন তৈরি হয়েছে তাতে কারো কোনো সন্দেহ নেই।

মঙ্গলবার বিকালে দলের চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক ‍কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে মেয়াদ প্রলম্বিত করে ক্ষমতায় টিকে থাকা বর্তমান প্রশ্নবিদ্ধ মন্ত্রিসভা জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে। এর নাম সম্প্রচার নীতিমালা করা হলেও উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতার দিক থেকে এটি মূলত সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণ ও দলন নীতিমালা।

মঈন খান বলেন, এই জঘণ্য কালাকানুন অমান্য করলে শাস্তির বিধান রেখে সম্প্রচার মাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে সম্পূর্ণভাবে শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে যাই বলুক তারা মানুষের মৌলিক অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কখনো বিশ্বাস করে না।
স্বাধীনতার পর তারা ১৯৭৩ সালের প্রেস এ- পাবলিকেশন্স এক্ট-এর মাধ্যমে সংবাদ-মাধ্যম ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা খর্ব করেছে। এরপর গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েমের পটভূমিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণে ৪টি রেখে দেশের সব সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করেছে। হাজার হাজার সাংবাদিককে পেশাচ্যুত ও বেকার করেছে।

যার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দৈনিক বাংলা, টাইমস, বিচিত্রাসহ বহু পত্রিকা বন্ধ করেছে। সাংবাদিকরা বেকার হয়েছে। এবারেও দৈনিক আমার দেশসহ অনেক পত্রিকা বন্ধ করা হয়েছে। চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি জোর করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সংবাদ ও টক-শোগুলো নানাভাবে নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে।

ড. মঈন বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার পথ ধরেই অতীতে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। বিএনপি গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মত প্রকাশ ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ সাংবাদিকতার স্বাধীনতা-বিরোধী আওয়ামী কালাকানুনগুলো বাতিল করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন।

তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জনবিচ্ছিন্ন সরকার দিশেহারা হয়ে মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখার যে অপচেষ্টা শুরু করেছে তা ব্যর্থ হবে। মানুষের অধিকার ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ্।

তিনি হীন উদ্দেশ্যে প্রণীত এই কালাকানুন অনতিবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, এই জঘন্য কালাকানুনের বিরুদ্ধে জনগণের মতপ্রকাশের অবারিত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিএনপি, ২০ দল এবং আমাদের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে নিজ নিজ অবস্থা থেকে সারাদেশে সোচ্চার হবার ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।

এ সময় দলের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা, এমএইচ, ০৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম