ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানায় মন্ত্রিত্বের পর সভাপতিমণ্ডলী সদস্য পদ হারালেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। একই সঙ্গে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও সাময়িকভাবে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন তাকে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হবে না তা আগামী সাত দিনের মধ্যে জানাতে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর আগে রোববার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসেন ভূইঞা সচিবালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিত্ব থেকে অপসারণের কথা জানান।

লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন পড়ে শুনিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের ১ দফার (গ) উপধারা অনুসারে তার মন্ত্রী পদে নিয়োগের অবসান ঘটানোর নির্দেশ দিয়েছেন।” তবে কেন লতিফের মন্ত্রিত্বের ‘অবসান’ ঘটানো হলো- সে বিষয়টি অবশ্য প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব নতুন করে কাউকে দেয়ার আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর হাতে তা থাকবে বলে জানান সচিব।

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী হজ, নবী মুহাম্মদ (স.), তাবলীগ ও জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। এরপরই তার এ বক্তব্য নিয়ে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় উঠে।

তার ওই বক্তব্যের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে কয়েকটি ইসলামী দল দেশব্যাপি কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেয়। আর তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি গ্রেফতারের দাবি তোলে বিএনপি।

এদিকে এরই মধ্যে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ দেওয়ার অভিযোগে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় কমপক্ষে দুই ডজন মামলা হয়েছে। আর ওইসব মামলার বেশ কয়েকটিতে তার বিরুদ্ধে সমনও জারি করেছেন আদালত।

এসএইচ