আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের বাধার কারণে ৮৩ ইউনিয়নে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রসাশনের সহযোগিতায় সারাদেশে সরকার দলীয় লোকজন বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

এমনকি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে অব্যাহতভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনকেও দায়ী করেন তিনি।

তিনি বলেন, কলঙ্কিত প্রহসনের ৫ জানুয়ারী ২০১৪ এর একতরফা নির্বাচনের যে মডেল খাড়া করেছে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার এবং তার দোসর নির্বাচন কমিশন পরবর্তীতে তারা প্রতিটি নির্বাচনে সেই মডেলটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে যাচ্ছে। এই ইউপি নির্বাচনেও যে ভোট ডাকাতিসহ আওয়ামী লীগ ক্যাডার ও পুলিশের যৌথ তান্ডব দৃশ্যমান হবে তার সকল আলামত শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিলে বাধা, বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ীঘর ও চলাচলের ওপর উপুর্যপুরী হামলা এবং চেয়ারম্যান প্রার্থীদেরকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের প্রাণবিনাশী হুমকি অব্যাহতভাবে চলছে। 

বিএনপির এই নেতা বলেন,  নিবাচনকালীন সময়ে পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্বেই থাকে, কিন্তু তারপরও প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় কী করে লীগ ক্যাডাররা নির্বাচনকে ঘিরে বাধা সৃষ্টি ও তান্ডব চালাতে পারে? নির্বাচন কমিশণ কী স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা নাকি গণভবন বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা সুধা সদনের এক্সটেনশন ভবন ? 

রিজভী বলেন, একটি সমাজে যদি দুরারোগ্য ব্যাধির মতো অপরাধ বিস্তারলাভ করে তবে বুঝতে হবে সমাজ পঙ্গু হয়ে গেছে। সমাজ তখনই পঙ্গু হয় যখন রাষ্ট্র ও সমাজ করতলগত হয় একধরনের লুটেরা অপরাধী গোষ্ঠীর। আর তখনই বিভিন্ন ধরনের অপরাধ পূণ:পূণ: ঘটতে থাকে। রাষ্ট্র যদি বেআইনী অস্ত্র রাজনৈতিক স্বার্থে সমাজবিরোধীদের হাতে তুলে দেয় অথবা বৈধ অস্ত্র আইনের লোকেরা ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নির্মূল করতে ব্যবহার করে তবে সমাজে আইন মান্যকারী নাগরিকের চেয়ে আততায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

একজন অপরাধীর তার অপরাধকর্মের লক্ষ্য থাকে খুন, জখমের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার, লুটপাট, দখল, মুক্তিপণ আদায়। আর পূর্বে অপরাধীদের দ্বারা অপরাধের শিকার হতো প্রৌঢ়-প্রৌঢ়া, যুুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণীর। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও শিশু-কিশোর’রা কিছুটা রেহাই পেতো। কিন্তু এখন অপরাধে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে হৃদয়বিদারক শিশু হত্যা। বেশ কিছুদিন ধরে নিজেদের অন্ধ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে অপরাধীরা যেন বেছে নিয়েছে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের। গত ১২ মাসে ৩৮০ জনের বেশী শিশু নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। রাষ্ট্রের পরিচালকদের যদি জবাবদিহিতাহীন অবৈধ স্বত্ত্বা থাকে, তারা যদি ক্রমাগতভাবে সমাজে হিংসা-কলহের বিষাক্ত বাষ্প নির্গত করতে থাকে, অসহিঞ্চুতা যদি তাদের রাজনৈতিক আচরণ হয়, তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করতে তারা বারুদ, বন্দুক, লাঠি, চাপাতি ব্যবহার করতেই থাকেন, দেশে জনগণের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে দেয়ার জন্য তারা যদি দলীয় লোকদের বেআইনী আচরণ করতে উৎসাহিত করেন তাহলে কাব্য কথায় দেশের লজ্জা চাপা পড়ে থাকবে না।

বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন,  গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারনেই আজ সমাজ ও রাষ্ট্রের মানবিক চেহারা লোপ পাচ্ছে। তাই নিষ্পাপ শিশুরাও এই দু:শাসনের করাল গ্রাসে চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এইভাবে ভোটারবিহীন সরকার আমাদের সমাজকে অনৈতিকতা আর অধ:পতনের লাষ্ট চ্যাপ্টারে পৌঁছিয়ে দিয়েছে। এই দেশকে শান্তি, সুস্থিতি ও স্বস্তি দিতে হলে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। একমাত্র সমাজ ও রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলেও অপরাধীদের দৌরাত্ম কমবে। অবৈধ সরকার ক্ষমতায় থাকলে নানাধরণের অপরাধসহ অবৈধ অপকর্মের প্রকোপ উত্তরোত্তর ক্রমবর্ধমানভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

আগামী ১৯ মার্চ ২০১৬ শনিবার বিএনপি’র জাতীয় সম্মেলন ও কাউন্সিল ২০১৬ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে গঠিত উপ-কমিটিগুলো পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। প্রচার ও ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটি, শৃঙ্খলা ও সেবা উপ-কমিটি, ড্রাফটিং উপ-কমিটি, প্রকাশন উপ-কমিটি ইতোমধ্যে সভা করে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন। ঢাকা মহানগরীতে প্রচার-প্রচারণার জন্য সড়ক-মহাসড়কের বিভাজক, লাইটপোষ্ট ও সড়কদ্বীপে ফেস্টুন টাঙ্গানোর জন্য অনুমতি পেতে সিটি কর্পোরেশন উত্তর ও দক্ষিণের মেয়রদের বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

এমএইচ