জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, “গণতন্ত্র হত্যাকারী সরকারের অদূরদর্শীতা ও ক্ষমতা লিপ্সার কারণেই দেশে রাজনৈতিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকার গণতন্ত্র হত্যা করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে দেশে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, সরকার দেশকে রাজনীতি শূন্য করার উদ্দেশ্যে দেশে হত্যা, সন্ত্রাস, নির্মূল ও বিভাজনের রাজনীতি চালু করেছে। সরকারের এ প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ। সরকারের নেতিবাচক মনোভাবের কারণেই দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সামনে রেখে সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে ২০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীদের গ্রেফতার করাসহ নানাভাবে হয়রানি করছে। ২০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীগণ ও তাদের সমর্থকগণকে মাঠে নামতে দেয়া হচ্ছে না।

অপর পক্ষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীগণ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সভা-সমাবেশ ও মিছিল করছে। মন্ত্রী এবং এমপিগণও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নেমেছে। কিন্তু সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন এসব ব্যাপারে রহস্যজনকভাবে নিরবতা পালন করে সরকারী দলের পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কারণে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণ আস্থা রাখতে পারছে না। কাজেই তিনটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ব্যাপারে জনগণের সন্দেহ ও শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তিনটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আজও সারাদেশে গণগ্রেফতার অভিযান চালিয়ে জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের প্রায় দুইশত নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এভাবে গ্রেফতার ও নির্যাতন চালিয়ে জনগণের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।

এমকে