বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় মঙ্গলবার দিনগত মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। এই মৃত্যু নিয়ে তিনি মোটেই চিন্তিত ছিলেন না। শেষ মুহূর্তটি পর্যন্ত তিনি ছিলেন শান্ত, সৌম্য, অবিচল।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর তিনি বলেছিলেন, 'আমি মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত নই। কারণ জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। যার যেখানে মৃত্যু লেখা আছে সেখানেই হবে। নবী রাসূল (সা:) ও ইসলামি আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর অতীতে জুলুম নির্যাতন ও মিথ্যা অপবাদ এসেছে। আজ আমরা যেহেতু ইসলামি আন্দোলনের কর্মী সেহেতু এ ধরনের জুলুম নির্যাতন আমাদের ওপর আসছে।'

২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের কাছে এসব কথা বলেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার সময় মাওলানা নিজামী স্বাভাবিক ছিলেন।

আদালতে তিনি কোনো কথা বলেননি। রায় ঘোষণার পর আদালতের অনুমতি নিয়ে আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন মাওলানা নিজামীর সাথে দেখা করেন।

সাক্ষাৎ শেষে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মাওলানা নিজামী বলেছেন, একাত্তরে আমি এবং আমার দল কোনো অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। শুধু জামায়াত দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামি শক্তি এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনে সমর্থন না দেয়ায় আমাকে এ বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।

রায়ে যেসব ঘটনার কথা বলা হয়েছে আমি কখনো সেসব জায়গায় যাইনি। সরকার অন্যায়ভাবে আমাকে এই মামলায় সাজা দিয়েছে। এ জন্য অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। তবে তা শান্তিপূর্ণভাবে করতে হবে। তিনি আরো বলেছেন, রায়ে তার সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি জামায়াতের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকতে এবং কোনো প্রকার উসকানিতে পা না দিতে বলেছিলেন।

এমআর