বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ডেঙ্গু দমনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে যেকোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় গুজব। 

সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে মানুষ মরছে, মরছে চিকিৎসক, মরছে শিশুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরা। এ পর্যন্ত একজন সিভিল সার্জনসহ কয়েকজন ডাক্তার মারা গেছেন ডেঙ্গুতে। আর সরকারি দলের নেতাসহ মেয়ররা জনগণকে ধমক দিচ্ছেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার।

বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিস একটা গুজবের ফ্যাক্টরি- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের জবাবে তার কাছে প্রশ্ন রেখে রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলা, জনগণের দুঃখ-দুর্দশা জাতির সামনে তুলে ধরা, গত ৬ মাসে শেয়ারবাজার থেকে ৪৩ হাজার কোটি টাকার মূলধন উধাও, সরকারের লুটপাট ও দুর্নীতি নিয়ে কথা, শেয়ারবাজার লুট নিয়ে কথা বলা, ব্যাংক লুটের কথা, বিদ্যুত ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ করা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা, বিরোধী দলের ওপর সরকারি নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলা, গুম-খুন-বিচার বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কথা বলা, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলাই কী গুজব?’

‘সেতুমন্ত্রীর ভাষায় দুর্নীতির উন্নয়নের পালকি এগিয়ে যাওয়ার কথাই কী শুধু বলতে হবে? গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়ে দেশে আইয়ুব খান মডেলের উন্নয়নের জয়গান কী গাইতে হবে। মনে হয় তাহলেই সেতুমন্ত্রীরা খুশি থাকবেন। আমরা বলতে চাই, যে বাতাবরণটি দেশের রাজনীতিতে আবর্তিত হচ্ছে, তাতে শত জুলুমের মুখেও বিএনপি সত্য উচ্চারণ করে যাবে। এই ভয়ঙ্কর নাৎসী শাসনের অমানিশার মধ্যে বিএনপিই কেবলমাত্র জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভরসার উদিত একটি আলোকবিন্দু।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আবারো তার দ্রুত মুক্তি ও বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসার দাবি জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাপরিষদ সদস্য অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মনির হোসেন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, রফিক হাওলাদার, সুলতানা আহমেদ, নাদিম চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম মানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমআর