সরকার ষোড়শ সংশোধনী বিলটি পাস করার মাধ্যমে বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করেছে। দেশের জনগণকে ন্যায়বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। জনগণের ন্যায় বিচার পাওয়ার আশা-ভরসার শেষ স্থল বিচার বিভাগ। জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার আর কোন সুযোগ রইল না বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল-২০১৪ পাশ করার প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ সব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, “বর্তমান সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের স্থলে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদটি পুন:স্থাপন করার মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারপতিগণকে অভিশংসন বা অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে সংবিধানের (ষোড়শ সংশোধনী) বিল-২০১৪ পাস করার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

২০ দলীয় জোটসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞগণ, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, পেশাজীবিসহ সকলেই বিচারপতিগণকে অভিশংসন বা অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে তুলে দেয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে এই অপপ্রায়াস বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে জনমতকে উপেক্ষা করে সংসদে ষোড়শ সংশোধনী বিল পাস করে বিচারপতিগণকে অপসারণ বা অভিশংসনের ক্ষমতা কার্যত: প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন। এই বিল পাস করে সরকার আইনের শাসন ও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, যে সব সংবিধান বিশেষজ্ঞ ১৯৭২ সালের সংবিধান রচনা করেছিলেন তারাও সরকারকে ষোড়শ সংশোধনী বিলটি পাস না করার জন্য আহবান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার কারো কথায় কর্ণপাত না করে নিজেদের দলীয় স্বার্থ সিদ্ধির জন্য বিচারপতিগণকে অপসারণ বা অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে তুলে দিয়ে বিচার বিভাগের উপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করেছে।

দেশের জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিলটি অবিলম্বে বাতিল করে শুভবুদ্ধির পরিচয় দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান ডা. শফিকুর রহমান।

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই