জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “এসব অসঙ্গতি আগামী ১ মাসের দূর করা সম্ভব না হলে ৮ জুন এই ঐক্যফ্রন্ট থেকে আমাদের দলকে প্রত্যাহার করে নেবো।”

আজ (০৯ মে) বৃহস্পতিবার মতিঝিলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এইসব কথা বলেন।

কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, “গত ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। সেই বছর ৫ নভেম্বর আমরা ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করি। কিন্তু এই জোটে নির্বাচনের পর অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পরবর্তী কিছু কিছু কাজে মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তারা সঠিকভাবে চলতে পারেনি। নির্বাচনি সহিংসতায় আহত-নিহতদের পাশে দাঁড়াতে পারেনি ঐক্যফ্রন্ট। সর্বশেষ ৩০ এপ্রিল শাহবাগে গণজমায়েত করতে ব্যর্থ হয়েছি আমরা।”

কাদের সিদ্দিকীর অভিযোগ, “৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে জঘন্য নাটক হয়েছে। যা শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর কোনও দেশেই এমন নাটকের নজির নেই। নির্বাচন পরবর্তী ঐক্যফ্রন্ট থেকে বলা হয়েছিল, আমরা এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছি। সেটা ছিল যথার্থ, রাজনৈতিক স্বার্থে। পরবর্তীতে কিছু সময় যেতে না যেতে গণফোরামের সদস্য সুলতান মুনসুর সংসদে যাওয়ার জন্য পাঁয়তারা করলেন, তাকে যাওয়ার জন্য বারণ করা হলো।

কিন্তু তিনি শপথ নিলেন এবং সংসদে গেলেন। জোট নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পরও গণফোরামের সুলতান মুনসুর শপথ নিলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। আবার মোকাব্বির খান শপথ নিলে ড. কামাল হোসেন তাকে গেট আউট বলেন। পরে দেখা যায় গণফোরামের বিশেষ সভায় মোকাব্বির খান উপস্থিত। এসব নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। মানুষ এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আমরা জবাব দিতে পারি না।”

তিনি বলেন, “বিএনপির তথাকথিত নির্বাচিত ৬ জনের মধ্যে প্রথম যখন একজন শপথ নিলেন, তখন তাকে বহিষ্কার করা হলো। পরবর্তীতে চার জন যখন শপথ নিলেন তাদের স্বাগত জানানো হলো। কিন্তু মির্জা ফখরুল শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকলেন। এসব মানুষকে বিভ্রান্ত করে। মানুষের কাছে এসবের জবাব দিতে হয়।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, “জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আল্টিমেটাম দেওয়ার আগে জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মহসিন মন্টুর সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের জোটের মধ্যকার অসঙ্গতি কথা বলেছি।”

কাদের সিদ্দিকী বলেন, “আজ আমাদের দলের বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পরবর্তী পর্যায়ে যে সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়নি, বিশেষ করে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে এবং সেই ফ্রন্টের সাত জন কারও সঙ্গে আলোচনা না করে শপথ নিয়েছে, কেন ঐক্যফ্রন্ট পরিচালনায় এতো দুর্বলতা ও সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা জোটকে এক মাস সময় দিয়েছি।”

ভোটারবিহীন নির্বাচনে অংশ নিয়ে যারা সংসদে গেছেন ভবিষ্যতে এরা সবাই মীর জাফরের চাইতেও ঘৃণীত মানুষ হিসেবে বিবেচিত হবেন বলেও উল্লেখ করেন জোটের এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার।

এমবি