সিলেটের কানাইঘাট, ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি স্থানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মজীবী মহিলা, কলেজের ছাত্রী, গৃহবধূ এবং কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হওয়ায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, "স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে যেভাবে গণধর্ষণ শুরু হয়েছে আমি তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং তাতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছি। দেশে আইনের শাসন না থাকা এবং বিচারহীনতার ফলে একের পর এক এ ধরনের পৈশাচিক ঘটনা ঘটছে।"
তিনি বলেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অনুগত বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নারী হওয়া সত্ত্বেও এভাবে নারী নির্যাতন শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য লজ্জার ব্যাপারও।'
জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেতন দেয়া হয়। অথচ সাধারণ নারীদের মান-ইজ্জত রক্ষার ব্যাপারে তাদের ভূমিকা হতাশাজনক বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, সিলেটের কানাইঘাটে মৎসজীবী পরিবারের এক তরুণী ফরিদা বেগমকে (১৭) তাদের পিতা-মাতার অনুপস্থিতে দুর্বৃত্তরা ঘর থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। দু’দিন পর ফরিদা বেগমের রক্তাক্ত লাশ পাশের বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে ঝুলান্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তিনি আরো বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার ফাঁকা বুলি আওড়াচ্ছে। কিন্তু নারীদের মান-ইজ্জত রক্ষার ব্যাপারে তার কার্যকর কোন ভূমিকা নেই। নিজেদের গদি রক্ষার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। অথচ সেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নারীদের মান-ইজ্জত রক্ষার ব্যাপারে কি ভূমিকা রাখছে?'
তিনি বলেন, 'বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে পিটিয়ে পঙ্গু করে দিচ্ছে। অথচ নারী নির্যাতনকারী দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে সরকার তেমন কোন ভূমিকা রাখছে না। এ কথা সকলেরই জানা পুলিশ বাহিনী ভাল করেই জানে সমাজে কারা দুর্বৃত্ত এবং সমাজ বিরোধী কাজে লিপ্ত। এ সব দুর্বৃত্তরা সরকারী দলের এবং প্রশাসনের আশ্রয়-প্রশ্রয় এসব অপকর্ম করেছে।'
তিনি বলেন, 'বিগত ২ মাসে রাজধানীর কুড়িলে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গারো তরুণীকে গণধর্ষণ, রামপুরায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ, লালবাগে ঘুরতে গিয়ে এক স্কুল ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার, সুত্রাপুরে স্বামী-স্ত্রীকে অচেতন করে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়।
প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের জানা-অজানা নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। শিশুরাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নারী অধিকারের ব্যাপারে যারা সোচ্চার তাদের মুখেও এখন কোন কথা নেই। যে সরকার নারীদের সম্মান রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে না তাদের মুখে দেশের উন্নয়নের কথা মানায় না।'
তিনি আরো বলেন, গণধর্ষণের শিকার নারী ও তার পরিবারের নিকট নিম্ন বা মধ্যম আয়ের দেশের কোন মূল্য আছে কি? এভাবে যারা গণধর্ষণ করে পার পেয়ে যাচ্ছে তাদের শাস্তি দেয়া না হলে দেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অসহায় মানুষগুলো রুখে দাঁড়াতে বাধ্য হবে। অতএব সময় থাকতে এ সরকারের সতর্ক হওয়া উচিত। অন্যথায় জনরোষের হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না।'
এমকে





