কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে মানুষ হত্যার জন্য সরকারকে দায়ী করে এসব ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছে দলটি।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান এ দাবি জানান।

জামায়াতের দাবি, রাজনৈতিক আন্দোলনকে সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করার জন্যই সরকারের মদদে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে।

কুমিল্লা, বরিশালের গৌরনদী ও রংপুরের মিঠাপুকুরে পেট্রলবোমায় মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা জানায় জামায়াত। দলটির অভিযোগ, সরকার দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষারোপ ও ঘায়েল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সন্ত্রাসী ও নাশকতা সৃষ্টির আন্দোলন বলে আখ্যায়িত করে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এসব হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির কড়া প্রহরার মধ্যে কী করে এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হয়, তা এক বিরাট রহস্য। এর জবাব সরকারকে অবশ্যই দিতে হবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর দোষ চাপিয়ে পার পাওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন “সরকারের একগুয়েমি, হঠকারিতার কারণে দেশে অব্যাহতভাবে হিংসাত্মক ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উস্কানিমূলক, আক্রমণাত্মক এবং জনগণের বুকে গুলি চালানোর ঘোষণা দিয়ে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। সরকারের প্ররোচনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এই সুযোগে দুরভিসন্ধি নিয়ে অব্যাহতভাবে পেট্রোল বোমা নিরপেক্ষ করে মানুষ হত্যা ও জনগণের জানমালের ক্ষতি করার বিভৎস ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ধরে নিয়ে গুলি করে মানুষ হত্যা করছে।

আজ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে ৭ জনকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বরিশালের গৌরনদীতে পেট্রোল বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে ২ জনকে। এর আগে মিঠাপুকুরে যাত্রীবাহী বাসে হামলা চালিয়ে ৪ জনকে হত্যা করা হয়। আমরা এ নির্মম হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি।

'দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস, ট্রাক ও চলন্ত যানবাহনে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে দেশবাসীর সাথে আমরাও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।'

'আমরা বার বার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপকারীসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্ত করার জন্য আহবান জানিয়েছিলাম।'

এমনকি জাতিসংঘের তত্তাবধানে তদন্ত কমিশন গঠন করে দোষীদের সনাক্ত করার আহবান জানিয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছিলাম, এ ধরনের কমিশনকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সর্ব প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা হবে। কিন্তু বারবার আমাদের আহবানকে অগ্রাহ্য করে সরকার দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষারোপ ও ঘায়েল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। জনগণের চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সন্ত্রাসী ও নাশকতা সৃষ্টির আন্দোলন বলে আখ্যায়িত করে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এসব হিংসাত্মক কর্মকান্ড সংঘটিত করা হচ্ছে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পেট্রোল বোমায় যারা নিহত হয়েছেন আমরা তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

যেকোন সুষ্ঠু, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে জামায়াত সকল ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, জনগণ তাদের ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার ও জানমালের নিরাপত্তার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে শামিল হয়েছে। কোনো ধরনের শক্তি বা বল প্রয়োগ করে তাদের নিবৃত্ত করা যাবে না। দেশের জনগণের দুর্দশা, ক্ষয়ক্ষতি না বাড়িয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় জামায়াত।

জেএ