একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর রিভিউ খারিজের রায়ের খবর গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।

মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধানী পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ রিভিউ আবেদন খারিজের এই আদেশ দেন।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশের পাশাপাশি খবরটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সাথে স্থান করে নেয়।

“Bangladesh Jamaat Leader Loses Final Appeal Against Execution For 1971 War Crimes” অর্থাৎ “চূড়ান্ত আপীলে হেরে গেল একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা”-শীরোনামে ভারতের ইংরেজী মাধ্যমে প্রচারিত প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

টেলিভিশন চ্যানেলটির ওয়েব ভার্সনে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়: “বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত মঙ্গলবার দেশটির ইসলামপন্থী একটি দলের এক শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে দায়ের করা সবশেষ আপীল খারিজ করে দিয়েছে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়: “১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নৃশংসতা চালানোর দায়ে তাকে এই দণ্ডাদেশ দেয়া হয়। আইনজীবীদের মতে, এর অর্থ হলো এখন যে কোন সময় তার ফাঁসি কার্যকর করা হবে।”

এই রায়টি এমন এক সময় দেয়া হলো যখন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই জাতি একের পর এক সন্ত্রাসী হামলায় ভুগছে এমন দাবি করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়:

“এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হামলার ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১লা জুলাই যখন রাজধানী ঢাকার একটি ক্যাফেতে ঢুকে বন্দুকধারীরা গুলি চালিয়ে ২০ জনকে হত্যা করে যাদের অধিকাংশই ছিলেন বিদেশী।”

ভারতীয় এই গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়: “মিডিয়া টাইকুন এবং জামায়াতে ইসলামীর অর্থ যোগানদাতাদের মূল ৬৩ বছরের মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে গত মার্চে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট।”

প্রতিবেদনে বলা হয়: “পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হ্ওয়াকে কেন্দ্র করে চলা যুদ্ধের সময় হত্যা, নির্যাতন, গুম ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে তাকে এই দণ্ডাদেশ দেয়া হয়।”

এনডিটিভির প্রতিবেদনে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে (International Crime Tribunal-ICT) ঘিরে সৃষ্ট বিতের্কের প্রসঙ্গটিও উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়: “The war crimes tribunal set up by Prime Minister Sheikh Hasina in 2010 has sparked violence and drawn criticism from opposition politicians, including leaders of the Jamaat-e-Islami, who say it is victimising her political opponents. The government denies the accusations.”

অর্থাৎ-“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠণ করেন যাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে নাশকতা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিরোধী রাজনীতিকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই বলে আসছে তাদের নেতারা রাজনৈতিক বিরোধীতার শিকার হচ্ছেন। তবে, সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।”

“রিভিউ আবেদন খারিজ, মীর কাশেমের ফাঁসি বহাল”-এই শীরোনামে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়: “বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। ফলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে এখন আর কোন আইনগত বাধা থাকল না।”

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়: “বিচার কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায় শেষে চলতি বছরের মার্চ মাসে মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেই রায়ের বিরুদ্ধে একটি রিভিউ আবেদন করেন মি. আলীর আইনজীবীরা। গত রবিবার সেই আবেদনের শুনানি শেষ হয় এবং আজ সকালে তার রায় ঘোষণা করা হয়।”

জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর মামলায় ২০১৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলো উল্লেখ করে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়: “১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে অপহরণ করে হত্যার দু'টি অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে এই মৃত্যুদণ্ড দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা ১৪টি অভিযোগের ১০টি প্রমাণিত হয়েছে। মি. আলীর বিরুদ্ধে আনা ১৪টি অভিযোগই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নির্যাতন কেন্দ্রকে ঘিরে।”

কেবি