বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,‘এই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ও সাংবাদিকদেরকে যেভাবে হয়রানি, অপমান, নির্যাতন করা হয়েছে, তা আর কোনো সরকারের আমলে হয়নি।’

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন তো সরকার আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে না, সরকার চালাচ্ছে এখন পোশাকধারী লোকেরা’।

অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দল নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও সহায়ক সরকারের দাবি সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর জাগপা।

ঢাকা মহানগর জাগপার সভাপতি আসাদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত পরশু দিন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মামলার হাজিরা ছিল আলীয়া মাদ্রাসার মাঠে বিশেষ আদালতে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখে মনে হয়, যে যুদ্ধ ক্ষেত্র। র‌্যাব, পুলিশ, আর্ম পুলিশ ব্যাটেলিয়ান, মোটরসাইকেল, বন্দুক, জলকামান, প্রিজন ভ্যান এমনভাবে রাখা হয়, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টেরোরিষ্টকে (সন্ত্রাসী) নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা কোন ধরনের রাজনীতি।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে এতটাই দেউলিয়া, রাজনীতিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অন্যায় ও মিথ্যা মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। তারা গ্রাম্য মোড়লের মত আচরণ করছে।’

সার্চ কমিটি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি এমনটা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সার্চ কমিটিতে সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক, সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত, সরকারি কাজে নিয়োজিত এমন লোকও রয়েছে। যারা নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, তারপরও আমরা মেনে নিয়েছি। নাম চাওয়া হয়েছিল, সার্চ কমিটির কাছে নাম দিয়েছি। একটি মাত্র কারণে, আমরা গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে কোন রকম সংঘাত, অস্থিতিশীল, অনিশ্চয়তা ছাড়া সুসংগত অবস্থায় দেখতে চাই।’

রাজনৈতিক সংকট দূর করে সুষ্ঠু অবস্থায় ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানান ফখরুল।

রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করবো আজকে তিনি (রাষ্ট্রপতি) যে জায়গার আছেন সেখান থেকে জাতিকে এই সংকট থেকে মুক্ত করতে পারেন। একটি নির্বাচন কমিশন দেবেন, যে কমিশন অন্তত শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ এটা বলতে শুরু করেছে, যা ঠিক করে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাই হবে। আমরাও সেটাই দেখতে চাই। জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে পারছেন কি না? যদি না পারেন ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায়ে তাদের নাম লিখিত হবে। আর যদি পারেন ইতিহাসের স্বর্ণ খচিত জায়গায় তাদের নাম লেখা থাকবে।’

এমই