আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যে বড় মাপের অপরাধী ছিলেন, তার রায় নিয়ে জনমনে ভয়ভীতি কাজ করলেও আজ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, অপরাধী যত বড়ই হোন, তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। এটিই ছিল আমাদের প্রত্যাশিত রায়।

বুধবার সকালে রায় ঘোষণার পর টেলিফোনে গণমাধ্যমের কাছে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ আদেশের পর দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বুধবার সকাল ৯টায় একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের অপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই বছরের ২৯ অক্টোবর খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেন সাকা চৌধুরী। তবে সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ।

তার বিরুদ্ধে আনিত চার অভিযোগ হলো- চট্টগ্রামের রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা, সুলতানপুর ও ঊনসত্তরপাড়ায় হিন্দু বসতিতে গণহত্যা এবং হাটহাজারীর এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তারছেলেকে অপহরণ করে খুন করা।

এক বছর নয় মাস পর আপিলের রায়ে ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর অভিযোগের সবগুলোতেই সর্বোচ্চ সাজা বহাল রাখা হয়েছে। ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ২০ বছরের কারাদণ্ডও বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

তবে ৭ নম্বর অভিযোগে ২০ বছরের সাজার ক্ষেত্রে আপিল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের দেয়া পাঁচ বছর কারাদণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়েছে ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগেও।

এআর