সরকারের হামলা, মামলা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস উপেক্ষা করে ২০ দলীয় জোটের ঘোষিত দেশব্যাপী মিছিল, সমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন অব্যাহত রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান।
আজ ১৬ জানুয়ারী এক বিবৃতির মাধ্যমে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকারের হামলা, মামলা ও জ্বালাও-পোড়াওসহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস উপেক্ষা করে দেশের জনগণ ২০ দলীয় জোটের ঘোষিত মিছিল, সমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অব্যাহত রেখেছে।
গণঅবরোধের কারণে গোটা দেশ অচল হয়ে পড়েছে। জনগণ ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বে গণঅবরোধ অব্যাহত রেখে কার্যত: স্বৈরাচারী আওয়ামী মহাজোট সরকারের প্রতি গণঅনাস্থা জ্ঞাপন করেছে।
গণপ্রত্যাখ্যাত সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরকারী দলের সন্ত্রাসী গুণ্ডা বাহিনীর মত ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকার অসৎ উদ্দেশ্যে সারাদেশে ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের গুলি করে হত্যা করছে, গণগ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে, মানুষের বাড়িতে বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে, অগ্নিসংযোগ করে বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে, নারী-পুরুষকে অপহরণ করছে, ছাত্রদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিচ্ছে।
যৌথবাহিনী আজ ১৬ জানুয়ারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কনসাটে ২০ দলীয় জোটের কর্মী মতিউর রহমানকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়িতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ২০ দলীয় জোটের কর্মী মোরশেদ আলম পারভেজকে গুলি করে হত্যা করেছে।
যশোর জেলার মাইকেল মধুসূদন দত্ত কলেজের ছাত্র ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী সাকিব হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে পিটিয়ে তার পা ভেঙ্গে দিয়েছে।
গত ১৫ জানুয়ারী রাতে যৌথবাহিনী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে ও রংপুর জেলার মিঠাপুকুরে জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটতরাজ করেছে ও অগ্নিসংযোগ করে বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করেছে।
শুধু তাই নয়, তারা মিঠাপুকুর উপজেলায় আল-আমিন ও বিউটি বেগম নামক এক দম্পতিকে এবং মৌসুমী আখতার নামে এক মহিলাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। এখনও তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। গতরাতে শিবগঞ্জ উপজেলায় র্যাব, পুলিশ, বিজিবি নিরীহ গ্রামবাসীর উপরে হামলা চালিয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকা- বন্ধ করার জন্য আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
অবরোধ চলাকালে আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, নীলফামারী, কক্সবাজার, গাইবান্ধা, নোয়াখালী, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট, নড়াইল, শেরপুর, চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলায় আইন-শ্ঙ্খৃলা রক্ষাকারী বাহিনী জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলীয় জোটের প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন নীলফামারী জেলা জামায়াতে ইসলামীর বায়তুলমাল সেক্রেটারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসাইন, সৈয়দপুর শহর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোঃ মোত্তাকীন।
গত ১৪ জানুয়ারী রাতে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক আমীর ৮৫ বছর বয়ষ্ক মাওলানা আবদুল মজিদকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২০ দলীয় জোটের শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে বাসে হামলা করে, আগুন দিয়ে এবং গুলি করে মানুষ হত্যা করে, বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সৃষ্টি করে দেশকে সন্ত্রাসের চারণভূমিতে পরিণত করেছে।
যৌথবাহিনীকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে সরকারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী তা-ব সৃষ্টির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সরকারের হত্যা, গণগ্রেফতার, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুরসহ সন্ত্রাসী তা-ব উপেক্ষা করে মিছিল, সমাবেশ ও গণঅবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন অব্যাহত রাখার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলীয় জোটের গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি প্রদান করার জন্য আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
এসএইচ





