দেশের বর্তমান সার্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে দলকে শক্তিশালি করার চেষ্টা করছে বিএনপি।এ প্রেক্ষিতে দলের সর্বস্তরে পুনর্বিন্যাস ও পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে দলকে নতুন প্রাণ দেয়ার চেষ্টা করছেন নেতারা। নতুন এই প্রক্রিয়াকেই এ মুহূর্তে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে এগুচ্ছে বিএনপি।দলটির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমনই আভাস মিলেছে।
দলটির নেতারা মনে করছেন, সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর মনোভাব আর দলের বেশিরভাগনেতাদের গা বাছানোর কারনেই আন্দোলনে সফলতা আসেনি। এমন অবস্থায় দলের সাংগঠনিক শক্তি মজবুত করার দিকেই বেশি মনযোগী হয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।
দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবী, বিগত আন্দোলনের ইতি টানার পরেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি দলসমর্থক বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবী নেতারাও সবার আগে দল পুনর্গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়াও বেশ কয়েকমাস আগেই দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ি গত রমজান মাস জুড়ে দল গোছানোর অংশ হিসেবে প্রাথমিক হোমওয়ার্কও সম্পন্ন করেছেন বিএনপির হাইকমান্ড।
দলের অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী কাউন্সিলকে সামনে রেখে দেশ ও দলের স্বার্থে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে নেতৃত্ব নির্ধারণ তৈরি করবে বিএনপি।সে লক্ষ্যে দলের সাংগঠনিক শক্তি জোরদার করে রাজনীতির মাঠে চমক দেখাতে চায় বিএনপি। তবে সেজন্য খুব বেশি সময় নিতে চায় না বিএনপির হাইকমান্ড। সব মিলিয়ে চলতি বছরের মধ্যেই জাতীয় কাউন্সিল করতে চায় দলটি। সেটি নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এবারের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির গঠনতন্ত্রে ব্যাপক সংশোধনী এনে দলটির কাঠামো ও পদে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হতে পারে। এমনকি গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা ও উপধারায় আনা হবে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ও বিয়োজন। ইতিমধ্যে সংশোধনীর খসড়া প্রণয়নে দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সমন্বয়ে একটি উপ-কমিটিও গঠন করা হয়েছে।স্বল্প সময়ের মধ্যে সংশোধিত 'গঠনতন্ত্রের খসড়া' দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবী আদায়ের জন্য পরবর্তী আন্দোলন যেন আর ব্যর্থ না হয় এবং দলে নতুন গতি সঞ্চার করার লক্ষ্যে বিএনপির সর্বস্তরে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
দলের সূত্র মতে, বয়সের ভারে দুর্বল, আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ধারাবাহিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং অবিশ্বস্তদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে বাদ দেয়া হতে পারে। এমনকি দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও মেধাবী, সৎ, ত্যাগী ও সাহসী বেশ কিছু তরুণ নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। জাতীয় কাউন্সিলের আগে ঢাকা মহানগরসহ মেয়াদোত্তীর্ণ অন্য মহানগর, জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোও পুনর্গঠন করা হবে।
আন্দোলনের মূল শক্তি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ ঢাকা মহাগর কমিটির নেতৃত্ব গঠনে নেয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য, তরুন ও সাহসী নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটানো হবে আগামী দিনের কমিটি গঠনে।খুব সহসাই যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।
দলের সাংগঠনিক পূণর্বিণ্যাস ও জাতীয় কাউন্সিল করার পরপরই নতুন করে আবারো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবীতে রাজপথের আন্দোলনের দিকে যাবে বিএনপি। সেজন্য আগামী ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে আবারও আন্দোলনে নামবে দলটি।
দল গোছানোর প্রশ্নে ও আন্দোলনের বিষয়ে খালেদা জিয়াও একই কথা বলেছেন। শনিবার বি বাড়িয়া জেলার নব নির্বাচিত আইনজীবী সমিতির নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে এলে সেখানেও তিনি দল গুছিয়ে ও জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলেছেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিএনপিকে পূণর্গঠন করে এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আমরা আবারো আন্দোলনে নামব।
অবশ্য এর আগে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন শুভেচ্ছা বিনিময়কালেও বিএনপি চেয়ারপারসন সাংবাদিকদের বলেছেন, দল পুনর্গঠনের পর শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামবেন তারা।
এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান টাইমনিউজবিডিকে বলেন,বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে দল গুছিয়ে উপর থেকে নীচ পর্যন্ত সঠিক নেতৃত্ব আনতে পারাই এখন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা পরিচ্ছন্ন, মেধাসম্পন্ন, বুদ্ধিদীপ্ত, ত্যাগী ও সাংগঠনিক দক্ষ নেতৃত্বের অভাবেই আমাদের আন্দোলন বারবার মার খাচ্ছে। সর্বস্তরেই অপেক্ষাকৃত তরুণ যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই আন্দোলনে সফলতা আসবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান টাইমনিউজকে বলেন, দলের নেতৃত্ব পুনর্গঠন একটি রাজনৈতিক দলের নিয়মিত কার্যক্রম। নানা কারণে এতদিন দল গুছানোর সুযোগ ছিল না। তবে সময়ের চাহিদার প্রতি নজর রেখে বিএনপি এবার রাজপথের পরীক্ষিত ও আন্দোলন সংগ্রামে যোগ্যদের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেবে দলের নেতাকর্মীরা সেটিই প্রত্যাশা করে।
এমএইচ/এসএইচ





