নেতৃত্বের কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে তার মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এমন মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন এই অব্যাহতিতে সরকারের সংকট তৈরী হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে একটি হোটেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফোরাম আয়োজিত ইফতারে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “তাকে কেন মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সে বিষয়টি জনগণের কাছে অস্পষ্ট। তবে এর মাধ্যমে সরকারের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরী হয়েছে। তবে আমরা যতটুকু শুনেছি নেতৃত্বের কোন্দলের কারণেই তার (আশরাফ) মন্ত্রীত্ব চলে গেছে।
নোমান আরও বলেন, “একবার শুনলাম সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পরে দেখলাম তিনি ঠিকই আছেন। এরপর দেখা গেলো তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে কে কোন মন্ত্রাণলয়ের দায়িত্বে থাকবে বা কাকে সরিয়ে দেয়া হবে তা প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। কিন্তু জনমতের দিক দিয়ে তিনি (সৈয়দ আশরাফ) একজন সজ্জন মানুষ। তাই কেন তাকে বাদ দেয়া হলো তা জনগণের কাছে অস্পষ্ট। ভবিষ্যতে তা জনগণ জানতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন নোমান।”
নোমান অভিযোগ করে বলেন, “খাদ্যমন্ত্রীসহ সরকারের অনেক মন্ত্রী আছেন যাদের ব্যাপারে জনগণের ধারণা তারা চুরি করে, লুটপাট করে। অথচ তারা এখনো বহাল তবিয়তে আছে। তাদের সরানো হচ্ছে না।”
একই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন একই বিষয়ে কথা বলেন।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জন্য শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, “কাকে কেবিনেটে রাখবেন না রাখবেন তা প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। কিন্তু আমরা জানি প্রথম থেকেই আশরাফ সাহেব মন্ত্রী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন না। মন্ত্রণালয় ঠিকভাবে যেতেন না।
কিন্তু যখন তিনি দেশের পতাকা নিয়েছেন, মন্ত্রী হিসেবে বেতনভাতা, সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন তখন তার শপথ অনুযায়ি কাজ করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি।”
সৈয়দ আশরাফকে একজন সজ্জন ব্যক্তি দাবি করে রিপন বলেন, “কেউ বিপদে পড়লে তার বিরুদ্ধে কথা বলা ঠিক না। তবে তার সঙ্গে রাজনীতি করা যায়। সংলাপ করা যায়। আগামী দিনে তার সঙ্গে সংলাপ হবে। আমি তার শুভ কামনা করি। ”
এমপিদের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের থোক বরাদ্ধে আপত্তির কারণে সৈয়দ আশরাফকে মন্ত্রনালয় থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের খবরের কথা উল্লেখ করেন রিপন।
তিনি বলেন, “শুনেছি তিনি এই লুটপাটের সঙ্গে একমত ছিলেন না। যদি এই খবর যদি সত্য হয় তাহলে তাকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত থেকে এর প্রতিবাদ জানালে বেশি ভালো হতো।”
রিপন বলেন, “আমরা আশা করি কেন তাকে মন্ত্রণালয় থেকে সরানো হলো তা নিয়ে সৈয়দ আশরাফ মুখ খুলবেন।”
সংগঠনের সভাপতি ও সাবেক এমপি ওয়াদূদ ভুইয়ার সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারনের উপদেষ্টা এম এ হালিম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হেলালী প্রমুখ।
এমএইচ/এসএইচ





