বিএনপির অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর ১৬টি স্পটে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

এজন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের তদারকিতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের নেতারা অবরোধ কর্মসূচিতে যেন কোনোভাবেই রাজপথে বের হতে না পারেন এজন্যই এমন সতর্ক অবস্থান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার পর পরই সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন।

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ অবরোধ প্রতিরোধে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত ১৬টি টিম সদস্যদের ঢাকার ১৬টি স্পটে মঙ্গলবার সকাল থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।

দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলকার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।

তিনি বলেন,‘ শীতের কারণে হয়ত একটু দেরিতে অনেকে বের হবে। কিন্তু আমরা সকালেই বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ এলাকায় চলে এসেছি। পরে অন্যান্য এলাকায় যাব।’

আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, ১৬টি সংসদীয় এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং যেসব এলাকায় আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য নেই সেসব এলাকায় স্থানীয় থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে সমন্বয়ক করে সতর্ক অবস্থান নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলের দিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, মিরপুর-১ (গোলচক্কর) এলাকায় আমির হোসেন আমু, আসলাম এমপি ও মিরপুর-১২ (পুরবী সিনেমা হল) এলাকায় ড. আব্দুর রাজ্জাক ভোলা ও ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ এমপি, শ্যামপুর-জুরাইন রেলগেট এলাকায় আহমদ হোসেন, এ্যাডভোকেট সানজিদা খানম এমপি, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় মতিয়া চৌধুরী, নুরুল ইসলাম নাহিদ, হাবিবুর রহমান মোল্লা এমপি, লালবাগ এলাকায় তোফায়েল আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এম এ আজিজ, সূত্রাপুর এলাকায় খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও সুজিত রায় নন্দী,বাড্ডা-রামপুরা এলাকায় একেএম রহমতউল্লাহ এমপি, ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে মোহাম্মদ নাসিম, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় ওবায়দুল কাদের, মাহবুব-উল আলম হানিফ এবং যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবেন।

উত্তরা এলাকায় এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি ও স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কামরাঙ্গীর চর এলাকায় থাকবেন এ্যাডডোকেট কামরুল ইসলাম এমপি। মোহাম্মদপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি এবং শাহবাগ, নিউমার্কেট ও কাঁটাবন এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থাকছে ছাত্রলীগের নেতারা।

এছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের নেতারা ধানমন্ডির কার্যালয় থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন। এ জন্য সোমবার রাতে ধানমন্ডি কার্যালয়ে দীর্ঘক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ও ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্য নেতারা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির আজকের অবরোধ হতাশাগ্রস্ত রাজনৈতিক নেত্রীর হতাশাজনক কর্মসূচি। জনগণ বিএনপির এই কর্মসূচি প্রত্যাখ্যা করেছে। ঢাকাসহ সারাদেশে যান চলাচল স্বাভাবিক।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি যে এতদিন একটা নাটক করেছে, খালেদার কর্মসূচির মাধ্যমে তা প্রমাণিত। আওয়ামী লীগ জনগণের দল। আওয়ামী লীগের ভিত্তি জনগণ। তাই বিএনপি যাতে অবরোধের নামে কোনো নাশকতা করতে না পারে এজন্য আমরা সার্বক্ষণিক যার যার নির্ধারিত এলাকায় সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান নেব।’

এএইচ